Showing posts with label মুক্তমত. Show all posts
Showing posts with label মুক্তমত. Show all posts
উখিয়া-টেকনাফকে নতুন করে সাজাতে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে : মুহাম্মদ শাহজাহান

উখিয়া-টেকনাফকে নতুন করে সাজাতে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে : মুহাম্মদ শাহজাহান

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

উখিয়া-টেকনাফকে নতুন করে সাজাতে হলে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করার আহবান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর কাছ থেকে ফ্যাসিস্ট সরকার যা কিছু কেঁড়ে নিয়েছিল, সবকিছুই মহান আল্লাহ আবারও ফিরিয়ে দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে যাবে, ইনশাআল্লাহ। 

তিনি আরও বলেন, আমরা উখিয়া টেকনাফকে নতুন করে সাজাতে চাই। অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী ইউনিয়ন পরিষদে বারবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মানুষের খেদমত করার চেষ্টা করেছেন। ভোটের নানা অনিয়ম, কারচুপির পরেও উপজেলা নির্বাচনে তিনি সম্মানজনক ভোট পেয়েছিলেন। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জনস্রোতের সামনে কালো টাকার স্রোত বিজয়ী হতে পারবে না। উখিয়া-টেকনাফবাসী আগামী নির্বাচনে অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে, ইনশা’আল্লাহ। 

সোমবার (২৮জুলাই) রাতে বিআইএ মিলনায়তনে উখিয়া-টেকনাফ ফোরাম আয়োজিত চট্টগ্রাম উখিয়া-টেকনাফের সাবেক বর্তমান দায়িত্বশীলদের প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন কাদেরীর সভাপতিত্বে ও সাবেক ছাত্রনেতা আমান উল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় প্রীতি সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-৪ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী।

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য চট্টগ্রাম মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত আমীর পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলাম, উখিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল ফজল, টেকনাফ উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ রফিকুল্লাহ, চট্টগ্রাম জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, এডভোকেট রফিকুল আলম, উখিয়া উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর নুরুল হক, সেক্রেটারি সুলতান আহমদ, আইআইইউসির প্রক্টর মোস্তফা মনির চৌধুরী, সিভাসুর সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর খলিলুর রহমান, অধ্যাপক জহির আহমেদ, মুহাম্মদ হানিফ, ছিদ্দিকুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আবছার ইব্রাহিম ছিদ্দিক নুর কাশেম, জয়নাল উদ্দিন, ছাত্র প্রতিনিধি রুহুল আমিন, নুরুল আবছার প্রমুখ।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বেসরকারি স্কুল অন্তর্ভূক্ত করার দাবিতে চকরিয়ায় মানববন্ধন

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বেসরকারি স্কুল অন্তর্ভূক্ত করার দাবিতে চকরিয়ায় মানববন্ধন

চকরিয়া টাইমস: 


চকরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এ কিন্ডার গার্টেনসহ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্তর্ভূক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশের ন্যায় চকরিয়া আদালত এলাকার প্রধান সড়কে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এসোসিয়েশন চকরিয়া উপজেলা শাখার ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে উপজেলার অর্ধশতাধিক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা অংশগ্রহণ করেন।

এসোসিয়েশনের চকরিয়া উপজেলা সভাপতি চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল আখেরের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি সাহারবিল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মশিউর রহমান আরিফ, চকরিয়া গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ.এম নুরুল হান্নান, অর্থ সম্পাদক মো. শহিদুল আলম, চাইল্ডস মর্ডান স্কুলের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবিরসহ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। ন্যায্য এ দাবির সাথে একাত্মতা পোষন করে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল শেষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়। যার অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রদান করা হয়।

এদিকে সমাবেশে বক্তারা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন।


মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ‘জুলাই বিপ্লবের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’; ‘শিক্ষা অধিকার, অনুগ্রহ নয়’ এবং ‘আমার শিশুর বিচার তার মেধায় চাই’ এসব স্লোগান দিতে থাকেন।

বক্তারা বলেন, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিয়ে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরাসরি সংবিধান পরিপন্থি এবং বৈষম্যের একটি ন্যক্কারজনক উদাহরণ।

তারা বলেন, কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরাও জাতীয় শিক্ষাক্রমে পাঠ গ্রহণ করে, বছরজুড়ে প্রস্তুতি নেয়। অথচ প্রতিষ্ঠান সরকারি নয় এই অজুহাতে তাদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এতে প্রশ্ন উঠছে, ‘শিক্ষা কি প্রতিষ্ঠাননির্ভর, না শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক?’

বক্তারা আরও জানান, সরকার যদি সত্যিই বৈষম্যবিরোধী অবস্থানে থাকে, তাহলে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করে সকল বেসরকারি প্রা. বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তারা রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।

দৈনিক যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামের স্মরণে চকরিয়ায় দোয়া মাহফিল

দৈনিক যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামের স্মরণে চকরিয়ায় দোয়া মাহফিল

চকরিয়া টাইমস:

চকরিয়ায় যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের স্বপ্নদ্রষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২০ জুলাই) বিকেলে যুগান্তর চকরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি আবুল মনসুর মোঃ মহসিন এর উদ্যোগে চকরিয়া হস্তশিল্প কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

চকরিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দৈনিক ইনকিলাব ও ডেইলি অবজারভার এর সাংবাদিক আলহাজ্ব ইবনে আমিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি দৈনিক মানব কন্ঠের আবদুল মজিদ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি বাংলাদেশ প্রতিদিনের জিয়াউদ্দিন ফারুক, দৈনিক যায়যায়দিনের মনজুর আলম, দৈনিক আমার দেশের ইকবাল ফারুক, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ এর জিয়াবুল হক, দৈনিক কালবেলার মনিরুল আমিন, দৈনিক ভোরের সময়ের নুরুল আমিন টিপু প্রমূখ আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকরা বলেন, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী নুরুল ইসলাম জাতির বাক স্বাধীনতা অর্জন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখার জন্য দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টিভি প্রতিষ্ঠা করেন। স্বাধীন দেশে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য যমুনা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে অনন্য রেকর্ড স্থাপন করেছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ভোরের ডাক এর সাঈদী আকবর ফয়সাল, দৈনিক আপন কন্ঠ এর জুলফিকার আলি ভুট্টাে, দৈনিক বাংলাদেশের খবর এর তৌহিদুল ইসলাম, দৈনিক মুক্ত খবরের রিদুয়ানুল হক, দৈনিক আমার সংবাদের নুরুল ইসলাম সুমন, কক্স অনলাইন বার্তার সম্পাদক রুবেল খান।

এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা নেছার উদ্দিন।

অপপ্রচারের প্রতিবাদ

অপপ্রচারের প্রতিবাদ

চকরিয়া টাইমস: 

সম্প্রতি "দৈনিক সময়ের কথা নিউজ মিডিয়া" ক্রেডিট দিয়ে মোহাম্মদ আবদুল হক নামের একটি ফেসবুক আইডিতে "চিরিংগা ইউনিয়নের চরণদ্বীপে বেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ" শীর্ষক সংবাদটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। সংবাদে উল্লেখিত তথ্য ও ছবি মিথ্যা, ভিত্তিহীন, ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

আমার সহধর্মিণী নারী জনপ্রতিনিধি বেবী আক্তারের নাম উল্লেখ করে এবং আমি ও আমার পরিবারকে জড়িয়ে অস্ত্রের ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি, নারীর প্রতি অনৈতিক আচরণ, প্রজেক্ট ডাকাতি ও লুটপাটের যে অবান্তর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে; তা সম্পূর্ণ হাস্যকর। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে আমার সহধর্মিণীর অবস্থান সুস্পষ্ট সোচ্চার ভূমিকা রয়েছে।

মূল বক্তব্য হলো; চিরিংগা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার বেবী আক্তার একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবক। তার দৈনন্দিন সমাজসেবামূলক বিভিন্ন প্রশংসনীয় কার্যক্রমে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। 

সংবাদে একটি এডিটিং টিকটক ভিডিওতে আমার স্কুল পড়ুয়া ছেলের হাতে অস্ত্র রয়েছে মর্মে যে ছবিটি দেখানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসূত। সেই ছেলেটি স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্র। তাছাড়া যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তার যথোপযুক্ত সুনির্দিষ্ট কোনো ভুক্তভোগির বক্তব্য নেই। অতএব বিভ্রান্তিকর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফেসবুক সংবাদটি আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের সামাজিকভাবে মানহানি করতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে প্রচার করা হয়েছে। 

আমি উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি মিথ্যা প্রচারিত সংবাদে প্রশাসন ও পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করছি। 


প্রতিবাদকারী- 

মো. শোয়াইব

চিরিংগা ইউনিয়ন, চকরিয়া।

হারবাং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সংস্কারের দাবিতে স্মারকলিপি

হারবাং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সংস্কারের দাবিতে স্মারকলিপি

চকরিয়া টাইমস :

চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অবকাঠামোগত সংস্কার ও সেবার মানোন্নয়নের দাবিতে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার হাতে লিখিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন জুলাই আন্দোনের অন্যতম মুখপাত্র সাখাওয়াত হোসাইন শিপনের নেতৃত্বে হারবাংবাসী।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আমি নিজেও কিছুদিন আগে এই স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছি, আমি দ্রুত সময়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একজন চিকিৎসক নিয়োগ, চিকিৎসক সহকারীকে নিয়মিত রোগী দেখার জন্য অবহিত করবো। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য উদ্যোগ গ্রহন করবো।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের দাওয়া ও ছাত্রকল্যান সম্পাদক সাখাওয়াত হোসাইন শিপন বলেন, আমরা আগের মতো এই কেন্দ্র থেকে চিকিৎসাস সেবা পেতে চাই। আমাদের ইউনিয়নে ৪৪ হাজার মানুষ বসবাস করেন, কিন্ত চিকিৎসাহ সেবা পাচ্ছে না। যদি আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে এই সমস্যা সমাধান হবেন বলে আশা ব্যাক্ত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক টুটুল বলেন, আমাদেরকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার সুযোগ নেই। যদি সুন্দর একটা সমাধান পেতে চাই সেক্ষেত্রে সরকার এবং জনগণকে একসাথে কাজ করতে হবে।
“জুলাই ঘোষণাপত্র: কক্সবাজারের জনগণের প্রত্যাশা” শীর্ষক আপ বাংলাদেশের আলোচনা সভা

“জুলাই ঘোষণাপত্র: কক্সবাজারের জনগণের প্রত্যাশা” শীর্ষক আপ বাংলাদেশের আলোচনা সভা

চকরিয়া টাইমস :

ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর আয়োজনে “জুলাই ঘোষণাপত্র: কক্সবাজারের জনগনের প্রত্যাশা” শীর্ষক তাৎপর্যময় এক আলোচনা সভা শনিবার (২১ জুন) কক্সবাজার প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আপ বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় সদস্য মো. রায়হানুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও কক্সবাজারের সংগঠক নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আপ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত।

সভায় বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এডভোকেট আজিজুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের মজলিসে শূরা সদস্য সাবেক ভিপি শহিদুল আলম বাহাদুর, আপ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সদস্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক বিষয়ক কমিটির প্রধান মিনহাজুর রহমান রেজবী, রামু উপজেলা ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা মোহসেন শরীফ, আপ বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় সদস্য যথাক্রমে শেখ স্বপ্নীল হক আদিবা, ফায়াজ শাহেদ, তানভীর আজম, কক্সবাজার জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মীর মোহাম্মদ আবু তালহা, ছাত্রনেতা ও জুলাই যোদ্ধা এম. রুবায়েত আদেল, কক্সবাজার সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক এনসিপি সংগঠক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, কক্সবাজার ছাত্র অধিকার পরিষকের সংগঠক ইউসুফ বিন নূরী, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মোহাম্মদ নুরুল হক নুর প্রমুখ।

সভায় মাওলানা মহসিন শরীফ বলেন “জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তরুণরা, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে তরুণদের সক্রিয় থাকতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের স্বীকৃতি দিতে হবে এবং দুর্নীতি মুক্ত, ধর্মবিদ্বেষমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে।”

এডভোকেট আজিজুল ইসলাম বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই যেখানে শোষণ থাকবে না, যেখানে প্রতিটি মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত হবে।”

সাবেক ককসু ভিপি শহীদুল আলম বাহাদুর বলেন, “গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী আমলে আমরা যারা অধিকারের কথা বলেছি, ফ্যাসিস্ট সরকার তাদের ওপর গুম, হত্যাকান্ড চালিয়েছে। জুলাই পরবর্তীতে সেই পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। সেই পরিবেশ তৈরি করতে, আমাদের এক সাথে কাজ করতে হবে।”

মিনহাজুর রহমান রেজবী বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্রে সকল জুলাই যোদ্ধা ও সকল শ্রেণির মানুষের প্রত্যাশা প্রতিফলন থাকতে হবে।”

তানভীর আজম বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্রই সেই দলিল; যার মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।”

ফায়াজ শাহেদ বলেন, “জুলাইকে ‘বিপ্লব’ বলে স্বীকার করে ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করতে হবে।”

শেখ স্বপ্নীল হক আদিবা বলেন, “নারীদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জুলাই ঘোষণাপত্রকে দেখা মানে শুধুমাত্র নীতিগত বিবৃতি নয়; এটি দেখার বিষয় যে ঘোষণাপত্রে নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কতটা গুরুত্ব পেয়েছে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাফে সালমান রিফাত বলেন, “জুলাই গনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসক পালিয়ে গেলেও, ফ্যাসিস্ট সংস্কৃতি ও কাঠামো থেকে গেছে। ফলে, এই কাঠামোর মধ্যে যেই আসবে, সেই ফ্যাসিস্ট রুপে আবির্ভূত হবে।জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে সেই ফ্যাসিবাদের কাঠামো ভেঙে দিতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে মো: রায়হানুল ইসলাম বলেন, “ইন্টেরিম সরকারকে বলব, কোনো গড়িমসি না করে দ্রুত "জুলাই ঘোষণাপত্র" বাস্তবে রুপ দিতে হবে।”

বক্তারা বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র কেবল একটি রাজনৈতিক বিবৃতি নয়— এটি এক প্রজন্মের রক্ত, শ্রম, এবং ন্যায্যতার দাবি দিয়ে লেখা এক গণ-সংবিধান।এটি বিকেন্দ্রীকরণ, বৈষম্যহীনতা এবং নৈতিক রাষ্ট্রচিন্তার যৌথ খসড়া যার ভিত্তি হচ্ছে ইনসাফ।

বক্তারা ঐক্যমত পোষন করে আরো বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র কেবল রাজনৈতিক দাবি নয়, এটি একটি বিপ্লবের স্বীকৃতি এবং তা সংবিধানে কার্যকরভাবে প্রতিফলিত করতে হবে।” এই সভা ছিল এক রাজনৈতিক কাব্য, যার প্রতিটি বাক্য ছিল প্রতিরোধের বারুদ। রাষ্ট্র যদি নীরব থাকে, তবে আমরা তার কণ্ঠ হয়ে উঠবো। ইনসাফই হবে আমাদের রাজনীতি। ইনশাআল্লাহ।”

উল্লেখ্য, এটি ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিক আলোচনার ১২ তম পর্ব, যেখানে উঠে আসে অংশীজনের বাস্তব প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রচিন্তার সাহসী রূপরেখা। এতে আলেম, শিক্ষক, আইন বিশেষজ্ঞ ও ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনকল্যাণমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আদর্শের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে : মুহাম্মদ শাহজাহান

জনকল্যাণমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আদর্শের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে : মুহাম্মদ শাহজাহান

চকরিয়া টাইমস :

চট্টগ্রামে অবস্থানরত চকরিয়া-পেকুয়া আসনের জামায়াত শিবিরের জনশক্তিদের নিয়ে এক প্রীতি সমাবেশ ও প্রীতিভোজ মঙ্গলবার (২০ মে) চট্টগ্রাম চকবাজার কিশলয় কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রোগ্রামের নির্ধারিত সময়ের পূর্ব থেকে চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার নেতাকর্মীরা জমায়েত হতে শুরু করে। হলরুম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ছাড়িয়ে যায় বাহিরেও। এসব উপস্থিত শতশত নেতাকর্মী প্রজেক্টরের মাধ্যমে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। প্রীতি সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা হলেও অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় মিলন মেলায়।

চট্টগ্রাম ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। প্রধান বক্তার আলোচনা পেশ করেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক মো. মিছবাহুল করিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চকরিয়া পেকুয়া আসন জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ী আসন। ১৯৯১ সালে বাঘা বাঘা নেতাদের হারিয়ে বিপুল ভোটে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। এই এলাকার সকল পর্যায়ের মানুষের কাছে ইসলামী আদর্শের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে কল্যাণমূলক জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রধান বক্তা আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জামায়াতে ইসলামী জন্য রাজনীতি করে না। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজ করে যাচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, জামায়াতে ইসলামী বর্তমান সময়ে দেশের মানুষের কাছে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে একমাত্র নির্ভরশীল ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংগঠনের কর্মী-সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ব্যক্তিবর্গকে যৌথভাবে এগিয়ে আসতে হবে। কর্মীদেরকে সুখে দুঃখে জনগণের পাশে থেকে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রীতি সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক এম. কবির আহমদ।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, আল-আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আখতার আহমদ, ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি আ.ম.ম মশরুর হোসাইন, আ.ন.ম জুবায়ের, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাফর আলম, চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল বশর, চকরিয়া পৌরসভা আমীর আরিফুল কবির, পেকুয়া উপজেলা আমীর মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আমীর মাওলানা ফরিদুল আলম, বিশিষ্ট সমাজসেবক আরিফুর রহমান চৌধুরী মানিক, বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা এ.এইচ.এম বদিউল আলম, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মনজু, ইসলামী ছাত্রশিবির কক্সবাজার জেলা সেক্রেটারি মীর মোহাম্মদ আবু তালহা, হারবাং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমেদ বাবর, চট্টগ্রামস্থ চকরিয়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক হামিদ হোছাইন ও বিশিষ্ট সমাজসেবক সরফরাজ আল নেওয়াজ চৌধুরী। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন সাবেক ছাত্রনেতা ব্যাংক কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম।

প্রীতি সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, রাঙামাটি সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মিছবাহ উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদুদ্দিন ফারুক, আন্তর্জাতিক ইসলামী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের সাবেক প্রোভিসি ড. মসরুর মাওলা, ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক কফিল উদ্দিন ও অধ্যাপক সরওয়ার আলম, সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম কবির, চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা সৈয়দ করিম, পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা কুতুব উদ্দিন হেলালী, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার, চট্টগ্রামস্থ চকরিয়া সমিতির সভাপতি লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, পেকুয়া সমিতি চট্টগ্রামের জয়েন্ট সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম, রেজাউল করিম, সাবেক ছাত্রনেতা এস.এম আলী জিন্নাহ, আনোয়ার হোসাইন, মোহাম্মদ ইসমাঈল, হাফেজ তৌহিদুল ইসলাম, ফরিদুল আলম প্রমুখ।

গণতান্ত্রিক সম্ভাবনা ধরে রাখতে আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে এক হতে হবে : হাসনাত

গণতান্ত্রিক সম্ভাবনা ধরে রাখতে আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে এক হতে হবে : হাসনাত

চকরিয়া টাইমস : 

গণতান্ত্রিক সম্ভাবনা যাতে কোনভাবেই হুমকির মুখে না পড়ে এবং সম্ভাবনাকে ধরে রাখতে আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে এক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী অন্যতম মুখপাত্র হাসনাত আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২২ মে) তিনি নিজ ফেসবুক টাইমলাইনে এক পোস্টের মাধ্যমে এ আহবান জানান তিনি। নিম্নে হুবুহু তা তুলে হয়েছে। 

এনসিপিকে নির্বাচনবিরোধী আখ্যা দিয়ে সচেতনভাবেই এক ধরনের কলঙ্ক দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, ছাত্র উপদেষ্টারা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে চায়—এমন গুজব ছড়িয়ে নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করার নানা কার্যক্রমও চলমান। এই চক্রান্ত কয়েকটি দিক থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

অথচ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। গতকাল, ২১ মে, এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন— "প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত যে সময় দিয়েছেন, আমরা সেটিকে সমর্থন করেছি। এর মধ্যে নির্বাচন হতে পারে। তবে আমরা এর মধ্যে বিচার ও সংস্কারের কথা বলেছি।"
অন্যদিকে, ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ১০ মে বলেন— "ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবেই।" তিনি একাধিকবার নির্বাচন বিষয়ে এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
তারপরও, দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা এবং ইন্টারিম সরকারের অংশ হওয়া দুইজন ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চাওয়া মোটেই স্বাভাবিক কোন বিষয় বলে মনে করি না।
অন্যদিকে, আমাদের সাব-কনশাস মাইন্ডে আর্মিকে রাজনৈতিক সালিশের ক্ষমতা দিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অথচ বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ভুক্তভোগী একটা দল। আমরা এখনো ওয়ান-ইলেভেনের ইতিহাস ভুলে যাইনি, এখনো তারেক রহমানের নির্যাতনের ঘটনা আমাদের স্মরণে রয়েছে।
সেনাবাহিনী আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা সতর্ক পাহারাদার। দেশের প্রয়োজনে, সার্বভৌমত্বের প্রয়োজনে, আমরা প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করব। কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সুষ্ঠু ক্ষমতা হস্তান্তরের যে আকাঙ্ক্ষা থেকে ২০২৪-এর অভ্যুত্থান ঘটেছে, সেখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে আমরা মেনে নেব না। রাজনৈতিক সালিশের সুযোগ দিয়ে আরেকটি ওয়ান-ইলেভেনের পথ কেউ প্রশস্ত করছে কি না—তা নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার আন্দোলনে আমরা যাদের পাশে পেয়েছি, তাদের প্রতি আমাদের ঐতিহাসিক কৃতজ্ঞতা থাকবে। আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতেও সব পক্ষকে এক থাকতে হবে। এই দাবিতে বড় কোনো দলের নির্লিপ্ততা আমাদের হতাশ করে।
গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা, আওয়ামী লীগের বিচার এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিশ্চিত করে দ্রুত নির্বাচনে যাওয়ার লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলের একসঙ্গে কাজ করা জরুরি। ক্ষণস্থায়ী ফায়দা লুটতে গিয়ে ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত বিপুল সম্ভাবনার জনআকাঙ্ক্ষাকে নষ্ট করা হলে, তা হবে একটি ঐতিহাসিক ব্যর্থতা।
আমরা যেন নিজেরাই বিভাজনের পথ বেছে নিয়ে অন্য কাউকে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ না দিই। বাইরের কাউকে রাজনৈতিক মাতব্বরি করার সুযোগ দিয়ে দেশের শুদ্ধ গণতান্ত্রিক সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে না ফেলি। বৈদেশিক হস্তক্ষেপ ও দেশীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে আধিপত্যবাদবিরোধী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে এক হতে হবে।



আলীর সুড়ঙ্গের পরাবাস্তব আখ্যান

আলীর সুড়ঙ্গের পরাবাস্তব আখ্যান

মমতাজ উদ্দিন আহমদ:

আলীকদমের শান্ত প্রকৃতির মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা আলীর পাহাড় যেন এক রহস্যের আঁধার। এর গভীরে লুকিয়ে থাকা সুড়ঙ্গগুলো কালের সাক্ষী, ধারণ করে অসংখ্য অশরীরী কল্পকথা। লোকমুখে ফেরা সেইসব কিংবদন্তীর আবছা আলোয় আজ আমরা প্রবেশ করব এক পরাবাস্তব জগতে, যেখানে বাস্তবতা আর কল্পনার সীমা অস্পষ্ট।
আলীর পাহাড়ের নামকরণের ইতিহাস ধূসর, তবে এর গায়ে লেগে থাকা রহস্যের ছোঁয়া আজও অনুভব করা যায়। জনশ্রুতি বলে, এই পাহাড় ও তার সুড়ঙ্গ এক ভিন্ন জগতের প্রবেশদ্বার। হয়তো সেই অজানার টানেই বহু বছর আগে একদল কাঠুরিয়া ভাগ্য অন্বেষণে এখানে এসেছিল।
একদিন, কাঠ কাটার সময় তাদের দলের একজন গভীর অরণ্যের নিস্তব্ধতায় হারিয়ে যায়। সঙ্গীরা যখন তাকে খুঁজে ক্লান্ত, তখন সে এক অলৌকিক মায়াজালে বাঁধা পড়ে। গাছের পাতায় আচ্ছাদিত এক অপার্থিব রূপসী তাকে আলিঙ্গন করে, যার স্পর্শে পৃথিবীর সমস্ত সত্য যেন তুচ্ছ মনে হয়।
হারানো সেই কাঠুরিয়া আর ফেরে না। সঙ্গীরা ধরে নেয় কোনো বন্য জন্তুর শিকার হয়েছে সে। কিন্তু সত্য ছিল অন্য কিছু। সেই রূপসী, কোনো দূর নক্ষত্রের আলোয় গড়া মূর্তির মতো, তাকে টেনে নিয়ে যায় আলীর পাহাড়ের গভীরে, এক সুড়ঙ্গের আঁধারে।
সুড়ঙ্গের অভ্যন্তরে সময় থমকে দাঁড়ায়। দিনের আলো প্রবেশ করে না, রাতের তারারাও যেন পথ ভুলে যায়। সেই রূপসীর বাহুডোরে বন্দি কাঠুরিয়া এক নতুন জগতে প্রবেশ করে—যেখানে বাস্তবতা স্বপ্নের মতো অস্পষ্ট। ধীরে ধীরে সে জানতে পারে, সেই নারী কোনো সাধারণ মানুষ নয়, বরং এই পাহাড়ের রহস্যময় আত্মার অংশ।
মাঝে মাঝে সেই রূপসী তার আসল রূপে আবির্ভূত হয়—এক বিশাল, শ্বেতকায় সত্তা, যার পরনে পশুর চামড়া আর অলংকার পাখির পালক। তারা আগুনের উত্তাপ চেনে না, বেঁচে থাকে প্রকৃতির দান ফলমূল আর শিকার করা পশু-পাখির মাংসের ওপর। কাঠুরিয়াও ধীরে ধীরে সেই অচেনা জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।
রাতের নিস্তব্ধতা তার মনে ভয়ের সঞ্চার করে। সেই অশরীরী নারীর পাশে নিজের অস্তিত্বকে ক্ষণস্থায়ী আর মিথ্যা মনে হয়। তার আলিঙ্গন ক্রমশ অসহ্য হয়ে ওঠে, যেন কোনো অদৃশ্য শেকল তাকে বেঁধে রাখে।
একদিন, যখন রহস্যময়ী নারী শিকারে যায়, সুড়ঙ্গের মুখ খোলা থাকে। কাঠুরিয়া দেখে, বাইরের পৃথিবীর আলো তার জন্য অপেক্ষা করছে। সে পালিয়ে আসে, ফেলে আসে সেই পরাবাস্তব জগৎ। কিন্তু সেই মায়াবী স্পর্শ, সেই অচেনা ভয়—সবকিছু তার স্মৃতিতে জীবন্ত থাকে।
তবে সেই অশরীরী মায়ার বাঁধন কি এত সহজে ছিন্ন হওয়ার? লোককথা বলে, আজও আলীর পাহাড়ের গভীরে সেই রূপসীর দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়, তার হারানো সঙ্গীর জন্য এক অসীম হাহাকার। আর গভীর রাতে, সুড়ঙ্গের মুখে নাকি দেখা যায় এক ছায়ামূর্তি—যার চোখে তার হারানো ভালোবাসার জন্য অনন্ত বেদনা।
এই কাহিনী কোনো বাস্তব ঘটনা নয়, হয়তো বা আলীর পাহাড়ের নীরবতা আর সুড়ঙ্গের অন্ধকার জন্ম দিয়েছে এমন রহস্যময় কল্পনার। তবে আজও যারা সেই পথে হাঁটেন, তারা হয়তো অনুভব করেন এক অশরীরী উপস্থিতির নীরব স্পন্দন—এক পরাবাস্তব জগতের ক্ষীণ প্রতিধ্বনি।
লেখক: মমতাজ উদ্দিন আহমদ,
সভাপতি, আলীকদম প্রেসক্লাব,
বান্দরবান পার্বত্য জেলা।
চকরিয়ায় ভুক্তভোগি পরিবারের সাংবাদিক সম্মেলন : সাজানো ঘটনার মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে

চকরিয়ায় ভুক্তভোগি পরিবারের সাংবাদিক সম্মেলন : সাজানো ঘটনার মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে

চকরিয়া টাইসম:

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড মৌলভীরকুম এলাকায় মাদক সেবীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিবাদ করায় পারিবারিক পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মাস খানেক পূর্বের একটা মিথ্যা ধর্ষণ ঘটনা সাজিয়ে মৌলভীরকুমবাজার পাড়ার সমাজপতি শাহাবুদ্দিন সওদাগর (৬৫) এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি মিথ্যা ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করে কতিপয় মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে হয়রানি ও মানহানিকর ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে রোববার (৪ মে) চকরিয়া থানা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সুবিচার কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী শাহাবুদ্দিন সওদাগরের পরিবার।

চকরিয়া পৌরশহরে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে সাজানো ধর্ষণ ঘটনা নিয়ে এলাকার মাদকসেবি ও কতিপয় স্বার্থানেষী মহলের নানামুখী ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বক্তব্য উপস্থাপন করেন শাহাবুদ্দিন সওদাগরের স্ত্রী বুলবুল আক্তার, ভাইয়ের স্ত্রী শাহেনা বেগম, সেলিনা আক্তার, এ্যানি আক্তার এবং দুই ছেলে মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন। এসময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

শাহাবুদ্দিন সওদাগরের স্ত্রী বুলবুল আক্তার (৫৬) বলেন, আমার স্বামী একজন শারীরিকভাবে অসুস্থ মানুষ। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন। সংসার জীবনে তিনি একবারে অক্ষম একজন মানুষ। দীর্ঘ সাতবছর ধরে তিনি সংসার জীবন করতে পারছেনা। সেখানে তিনি কীভাবে ধর্ষণের মতো ঘটনায় জড়িত হবে, তা আমার কাছে মোটেও বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এলাকায় তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সমাজপতি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কতিপয় মহল এতে বেশি ইর্ষাণিত। তাঁকে দায়িত্ব থেকে কীভাবে সরিয়ে দেওয়া যায়, সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের মতো একটি সাজানো ঘটনায় তাঁকে জড়িয়ে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

শাহাবুদ্দিন সওদাগরের ভাইয়ের স্ত্রী শাহেনা বেগম বলেন, আমার ভাসুর একজন ধার্মিক মানুষ। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়েন। ফজরের নামাজের পর তিনি প্রতিদিন কুরআন তেলোয়াত করেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি আমাদের এলাকায় মসজিদে গিয়ে যিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়ার চেষ্টা করেন। তিনি এধরণের ঘটনায় কোনভাবে জড়িত নন।

সাংবাদিক সম্মেলনে শাহাবুদ্দিন সওদাগরের দুুই ছেলে মহিউদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমাদের বাবার অপরাধ তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সততার সঙ্গে এলাকায় সমাজপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এলাকায় মাদকসেবি খারাপ মানুষের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন। সেকারণে সমাজের খারাপ প্রকৃতির মানুষগুলো আমাদের বাবার উপর ক্ষুব্ধ। এই চক্রান্তের অংশ হিসেবে তাঁরা একমাস আগের একটি সাজানো ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করে আমার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় জড়িয়ে দিয়েছে।

দুই ছেলে সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন, আমাদের বাবা যদি সত্যিকারের অপরাধী হয, আমরা বিচার মাথা পেতে নেব। তবে তাঁর আগে ধর্ষণ ঘটনার মেডিকেল রিপোর্ট দিতে হবে। প্রয়োজনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার চাই, নিরপেক্ষ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

শাহাবুদ্দিন সওদাগরের পরিবার সদস্যরা বলেন, আমরা মিডিয়া ট্রায়াল বা অপপ্রচারের শিকার। একটি মিথ্যা ঘটনায় আমাদের পরিবার সদস্যদের জীবনযাপন বিষিয়ে তুলেছে। এখন রাতের বেলায় আমাদের বাড়িতে এসে হামলা চালানো হচ্ছে। পরিবারের নারীদের ইজ্জত নিয়ে টানাহেঁচড়া করা হচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা প্রশাসনের কাছে সুবিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আবদুল্লাহ আল ফারুখ তথা দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাবো : অধ্যাপক এনামুল হক মনজু

আবদুল্লাহ আল ফারুখ তথা দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাবো : অধ্যাপক এনামুল হক মনজু

চকরিয়া টাইমস :

চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার-১) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রশিবিরের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক এনামুল হক মনজুর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক বিভাগের অর্থ সম্পাদক ও কক্সবাজার জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মুছা ইবনে হোসাইন বিপ্লব।

আজ রোববার (৪ এ্রপ্রিল) দুপুর বারোটার রাজধানীর হাতিরপুল এলাকায় এ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন তিনি। এতে জননেতা এনামুল হক মনজু বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসনের জামায়াত মনোনীত সম্ভব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জননেতা আবদুল্লাহ আল ফারুখকে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় বিজয় করার লক্ষ্যে চকরিয়া-পেকুয়া সর্বস্তরের মানুষের সাথে কাজ করে যাবো।

তিনি আরো বলেন ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী আমাকে নির্বাচনের মাত্র ৫০দিন আগেই প্রার্থী হিসেবে নিশ্চিত করেন। এবং এই কয়েক দিনের প্রচার প্রচারণার ব্যবধানে চকরিয়া ও পেকুয়ার আপামর জনসাধারণ আমাকে ও আমার সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে প্রাণ ভরে গ্রহণ করেছিলেন। আশা করি আগামী নির্বাচনে আব্দুল্লাহ আল ফারুখকে চকরিয়া-পেকুয়ার জনগণ সর্বাত্বক সমর্থন দিয়ে জয় যুক্ত করবেন। চকরিয়া-পেকুয়া আমাদের বিজয়ী ময়দান, এই ময়দান পুনঃ উদ্ধার করে ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতার হাতে ফিরিয়ে দিতে কাজ করবো ইনশা’আল্লাহ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ছাত্রনেতা তারেকুজ্জামান, সাবেক ছাত্রনেতা হেলাল উদ্দিন ও শিল্পী মিনার উদ্দিন।

হাজার টাকায় রক্ত পরিসঞ্চালন খরচ নির্ধারণের দাবি মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের

হাজার টাকায় রক্ত পরিসঞ্চালন খরচ নির্ধারণের দাবি মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের

চকরিয়া টাইমস :

যুবকদের বিনামূল্যে রক্তদানের মত একটি মহৎ মানবিক কাজে প্রাইভেট হাসপাতালের গলাকাটা পরীক্ষা বানিজ্যের অভিযোগ তুলে তাহা বন্ধ করা। রক্ত পরিসঞ্চালনে সকল পরীক্ষা-নিরিক্ষা ও বেড ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ সব হাসপাতালে অভিন্ন মূল্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ। রক্তদাতাদের হয়রানি বন্ধসহ ৩ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন চকরিয়া উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জয়নুল আবেদীনের কাছে লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এতে উপস্থিত ছিলেন মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা সাংবাদিক এইচ এম রুহুল কাদের , সভাপতি সায়েদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক ইসফাতুল ইসলাম জিসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ, অর্থসম্পাদক জাফর ইকবাল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাংবাদিক শাহরিয়ার মাহমুদ রিয়াদ, সিনিয়র সদস্য সাংবাদিক আরফাত হোছাইন সানিসহ ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

এসময় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জয়নুল আবেদীন বলেন, মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের দাবিগুলো যৌক্তিক।

এ ব্যাপারে দ্রুত সকল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জনের সাথে পরামর্শ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

চকরিয়া টাইমস: 

"চকরিয়ার মহিউদ্দিনকে মালয়েশিয়ায় অপহরণ করে মুক্তিপন দাবি করে মানবপ্রাচারকারী চক্রের মূল হোতা হামিদ" শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে । সংবাদটি মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে প্রচার করা হয়েছে । আমি উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে , মহিউদ্দিন ও আমি মালয়েশিয়াতে একই কোম্পানিতে চাকরি করতাম, এবং তিনি ভিন্ন বাসায় থাকতেন। গত ১২ মার্চ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার সময় মালয়েশিয়ান পুলিশ (ভিসা ছাড়া) অবৈধভাবে বসবাস করার অপরাধে তাকে আটক করে। পরবর্তী আটকের ২-৩ ঘন্টার মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জরিমানা দিয়ে মহিউদ্দিনকে মুক্ত করে আত্মীয়রা । পরবর্তী চাকরিরত কোম্পানিতে কাজ করতে গেলে পুলিশের অভিযোগের কারণে কোম্পানি আর চাকরিতে গ্রহণ করেনি । 

উক্ত চাকরিচ্যুতির ক্ষোভ থেকে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করা হয়েযছে। মহিউদ্দিন ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত নানাধরণের হুমকি দিয়ে আসছে। 

আমার পরিবার মহিউদ্দিনের পিতার সাথে যোগাযোগ করা হলে; তিনি পুলিশের কাছে জরিমানা দিয়ে মুক্ত হয়েছে বলে মুঠোফোনে শিকার করেন। যাহা আমাদের কাছে রেকর্ড সংরক্ষণ আছে । অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো। কুচক্রী মহলের ইন্ধনে আমি ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে মানক্ষুন্ন করতে জাতির বিবেক সাংবাদিক ভাইদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করিয়েছে। তাই মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদে আমার পরিবার ও এলাকার সংশ্লিষ্ট সকলকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।


প্রতিবাদকারী:

আব্দুল হামিদ, (মালয়েশিয়া প্রবাসী)

ছাইরাখালী,৯নং ওয়ার্ড, ফাঁসিয়াখালী, চকরিয়া।

ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের জন্য পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থা দায়ী : মামুন মাহফুজ

ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের জন্য পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থা দায়ী : মামুন মাহফুজ

অনলাইন ডেস্ক : 

আছিয়াকে নিয়ে কোন কথা লিখিনি বলিনি।

কেন সে কারণটা বলতেও আমার বুক কাঁপে।
এটা একটা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স। এর জন্য সরকার নয় পরিবার দায়ী। তবে সবচেয়ে বেশি দায়ী সমাজ ব্যবস্থা।
এই সমাজ ব্যবস্থা কাউকে ধনী বানিয়েছে কাউকে দরিদ্র বানিয়েছে কাউকে ক্ষমতাবান বানিয়েছে আর কাউকে অসহায় বানিয়েছে।
ধর্ষণের প্রধান কারণ এই বৈষম্য। যার শক্তি আছে সে তার চেয়ে কম শক্তিশালী বা দুর্বলের ওপর যেকোনো ধরনের উপায়ে নিপীড়ন করে।
ধর্ষণ যেকোনো পুরুষ করতে পারে। ধর্ষণ করার ক্ষেত্রে একটা পুরুষ চিন্তা করে না যাকে ধর্ষণ করবে সে শিশু নাকি যুবতী নারী! বরং সে চিন্তা করে এর সঙ্গে কিছু করলে আমার কিছু হবে কিনা যখন সে বুঝতে পারে যে এর সঙ্গে খারাপ কিছু করলেও আমার কিছু হবে না তখনই সে খারাপ কিছু করে।
কখন ধর্ষক এটা ভাবে?
যখন প্রতিপক্ষ দুর্বল হয় বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণীর উপর মানুষ অত্যাচার নিপীড়ন ধর্ষণ ইত্যাদি বেশি চালায়।
এসব তাত্ত্বিক কথা বলে আর লাভ নেই, মানুষ কোন সমস্যার মূল উপড়ে ফেলতে রাজি নয়, তাৎক্ষণিক সমাধান চায়।
আছিয়ার উপর এমন নিষ্ঠুর ঘটনা যে ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা ওই পশুটার কাছ থেকে আগেই পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু আছিয়ার বোন এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি তার দারিদ্র্যের কারণে। সামাজিক কারণে। আছিয়ার বাবা মার কারণে।
আছিয়ার বোন যখন তার শশুরের কাছ থেকে কুদৃষ্টির আভাস পেলেন তখনই তার এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না কারণ আছিয়া সম্পূর্ণ স্বামী নির্ভর এবং তার বাবা মা অত্যন্ত দরিদ্র। এইচ অসহায়ত্ব এরকম অসহায়ত্ব নারীদেরকে ধর্ষিত হতে বাধ্য করে নিপীড়িত হতে বাধ্য করে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে।
শশুরের কু মতলব টের পেয়ে আছিয়া স্বামী-সংসার ছেড়ে বাপের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা আছিয়ার বাবা-মায়ের জন্য অভিশাপ আর সমাজের জন্য কলঙ্ক। কোন মেয়ে বাপের বাড়ি ফিরে গেলে সেইটা মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় অপরাধ বড় লজ্জার। কার কতটুকু দোষ তার বিচার ছাড়াই মানুষ রায় দিয়ে দেয়।
ঘটনার দিন আসিয়া ও তার স্বামী কোথায় ঘুমিয়ে ছিল আর তার ছোট বোনটি কোথায় ঘুমিয়ে ছিল সেটি আমি আজ পর্যন্ত পরিষ্কার হতে পারিনি।
নিঃসন্দেহে বোন তাদের স্বামী স্ত্রীর মাঝখানে আছিয়াকে জায়গা দেননি। এমনকি আছিয়া কে আলাদা থাকতে দিলেও সেখানে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা কিংবা চিন্তা করা বোনের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
আছিয়ার বোন আছিয়ার সর্বনাশ ঠেকাতে পারেনি। কিন্তু শ্বশুরের মতলব থেকে কুদৃষ্টি থেকে সে নিজেকে রক্ষা করেছে। সেজন্য আছি আর বোনকে স্যালুট অন্তত একজন নারী নিজেকে হেফাজত করতে পেরেছে।
কিন্তু একই স্থানে যদি আছিয়ার বোন না হয়ে আছিয়ার ভাই হত দৃশ্যপট টা কী হতো?
ভাই তার নিজের জীবন বিপন্ন করে হলেও বোনকে রক্ষা করত বোনের গায়ে একটা আঁচর লাগতে দিত না। একটা মেয়ে তার স্বামী তার বাবার চেয়েও তার ভাইকে বেশি ভালোবাসে ঠিক এই কারণে। একটা মেয়ে তার স্বামীর কাছে তার বাবার কাছেও যতটা নিরাপদ নয় তার চেয়েও বেশি নিরাপদ বোধ করে তার ভাইয়ের কাছে।
আজ থেকে কান খুলে শুনে রাখেন বোনকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর সময় আরেকটা বোনকে দিয়ে পাঠাবেন না, ভাইকে পাঠাবেন। ভাই যদি ছোট হয় সে তার বোনকে আগলে রাখার সমস্ত চেষ্টা করে এবং সেই ক্যাপাসিটি আল্লাহ তাকে দিয়ে দেন।
আর এ কারণেই পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে পুরুষ হচ্ছে নারীর দায়িত্বশীল, রক্ষা কর্তা, অভিভাবক। আর এ কারণেই নারীদের দূরযাত্রায় হজ যাত্রায় একজন পুরুষ মাহরেম লাগে।
আমি আমার মেয়েকে স্কুলে পাঠাবার সময় কিংবা বাসায় একলা কখনো রেখে যাওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় তার সাথে তার ছোট ভাইকে রাখি। সে যদিও ছোট কিন্তু আমরা তার দায়িত্বশীলতা এই ছোটবেলাতেও যতটুকু দেখেছি তা সত্যি মুগ্ধ করার মত। আলহামদুলিল্লাহ। ভাই তার বোনের সঙ্গে এটা নিয়ে ওটা নিয়ে ২৪ ঘন্টা লড়াই করে কিন্তু বোনের হেফাজতের ক্ষেত্রে সে এক বিন্দু অবহেলা করে না, ছাড় দেয় না।
আমি নিশ্চিত আছিয়ার ক্ষেত্রে সেখানে যদি আছিয়ার বোন না হয়ে ভাই হত ঘটনা ঘটতো পুরোটাই উল্টো।

লেখক:
মামুন মাহফুজ
সাংবাদিক
চকরিয়ায় বিশ্ব আরবি ভাষা দিবস উপলক্ষে সেমিনার

চকরিয়ায় বিশ্ব আরবি ভাষা দিবস উপলক্ষে সেমিনার

চকরিয়া টাইমস:

চকরিয়ায় বিশ্ব আরবি ভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সম্পূর্ণ আরবি ভাষায় এক সেমিনার চকরিয়া পৌরশহরের ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) চকরিয়া আদর্শ শিক্ষক কাউন্সিলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাতারবাড়ী মজিদিয়া সিনিয়র মাদরাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা এরশাদ উল্লাহ।

শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন চকরিয়া সোসাইটি শাহী মসজিদের প্রধান মুয়াজ্জিন হাফেজ মাওলানা জালাল উদ্দিন।
সংগঠনের সেক্রেটারি আমজাদিয়া মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আবদুল লতিফের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চকরিয়া আমজাদিয়া রফিকুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার অধ্যক্ষ সংগঠনের উপদেষ্টা মাওলানা এনয়ামুল হক।
সেমিনারে আরবি ভাষার তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন মাস্টার রিদুয়ানুল ইসলাম, প্রভাষক মাওলানা মোরশেদ আলম, মাওলানা রুহুল আমিন আনসারী, মাওলানা কামাল উদ্দিন ও চকরিয়া গ্রামার স্কুলের হেড মাওলানা ইয়াসিন আকবর ইমরান।
এসময় চকরিয়া মিশকাতুল মিল্লাত দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মুহাম্মদ আবুল কালাম, মাস্টার এহসানুল হক, মুহাম্মদ শরিফ উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে সংগঠনের সফলতা এবং দেশ জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মহিউদ্দীন।
কক্সবাজারে হ্নীলার তিন রত্ন সংবর্ধিত

কক্সবাজারে হ্নীলার তিন রত্ন সংবর্ধিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের হ্নীলার তিন মেধাবী রত্নকে জমকালো সংবর্ধনা দিয়েছে কক্সবাজারস্থ হ্নীলা ফোরাম। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে শহরের হোটেল মিশুকের কনফারেন্স হলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত (সহকারী জজ) পলিনা আকতার স্মৃতি ও জয়নাল আবেদীন আল মারুফ ও ৪১ তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে নুরুল মোস্তফা বিন বশিরকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
আয়োজক কমিটির আহবায়ক সাবেক ছাত্রনেতা সরওয়ার কামাল সিকদার এর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাংবাদিক ছৈয়দ আলমের পরিচালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন কাদেরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও হ্নীলা শাহ মজিদিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মফিজুর রহমান মাদানী ও রঙ্গিখালী ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত সহযোগি অধ্যাপক মাওলানা শফিকুর রহমান।
বক্তব্য রাখেন-হ্নীলার কৃতি সন্তান খুরুশকুল গাজীর ডেইল দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোহাম্মদ ইসমাঈল, কক্সবাজার সিটি কলেজের প্রভাষক এহসান উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক ওমর ফারুক, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, কক্সবাজার হার্ভাড কলেজের প্রভাষক সিরাজুল কবির, উন্নয়ন কর্মী মোহাম্মদ আলী, বিশিষ্ট সমাজসবক এডভোকেট মীর জাহাঙ্গীর আলম, অভিভাবক আনোয়ার পারভেজ, বেলাল উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন, এডভোকেট আব্দুল আমিন, ব্যবসায়ী হারুনুর রশীদ, এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, এডভোকেট নুরুল কবির, শিক্ষক ক্রীড়া সংগঠক শফিকুল ইসলাম মাহাদী, আব্দুর রহমান হাশেমী, আতিকুর রহমান, অনিক, মুহাম্মদ শাহজাহান, নুরুল আলম, রফিক উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে সহকারী জজ মাদারীপুর জেলায় কর্মরত পলিনা আকতার স্মৃতি ও সিলেট মৌলভীবাজার জেলায় কর্মরত জয়নাল আবেদীন আল মারুফ, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কক্সবাজার সরকারী মহিলা কলেজে কর্মরত নুরুল মোস্তফা বিন বশির তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন। উপহার হিসেবে সংবর্ধিত তিনজনের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পুরো দেশে এই তিন মেধাবী রত্ন আলো ছড়িয়েছে। টেকনাফের হ্নীলা থেকে গড়ে উঠা সহজ বিষয় ছিল না। তাদের অদম্য পড়াশুনা আর পরিশ্রম আজ সফলতা এনে দিয়েছে। মাদক আর রোহিঙ্গা তকমা থেকে ফিরে আসতে তারা উদাহরণ ও ভূমিকা রাখবে।
সীমান্ত শহরে মেধা, মনন ও যোগ্যতায় টপকিয়ে মাদকের তকমাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাবে টেকনাফ। এই আয়োজন পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক ট্র‍্যাকে রাখতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা মনে করছেন।
চকরিয়ায় নদগর্ভে বিলীন ১৮টি বাড়ি

চকরিয়ায় নদগর্ভে বিলীন ১৮টি বাড়ি

শফিউল করিম সবুজ, চকরিয়া : 

দুইদিনের অতিভারী বর্ষনে মাতামুহুরি নদীর পার্শ্ববর্তী চকরিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কোচপাড়া এলাকায় ১৬-১৮টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

এছাড়া চকরিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশির ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পৌরসভার কোচপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। 

তারা জানান গত দুই দিনের ভারী বর্ষনে ভাঙ্গন শুরু হয় শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে পরিপূর্ণভাবে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায় এতে প্রত্যেক বাড়ির গরুছাগল, টিউবওয়েল, দালানঘরসহ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বিলিন হয়ে গেছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি এখন নদীগর্ভে বিলিন গেছে। আমাদের মাথা গোজার আর ঠাঁই নেই। এবিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

চকরিয়ায় রাইজিং স্টার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ পূণর্মিলনী ও গুণিজন সংবর্ধনা সস্পন্ন

চকরিয়ায় রাইজিং স্টার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ পূণর্মিলনী ও গুণিজন সংবর্ধনা সস্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চকরিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন রাইজিং স্টার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ পূণর্মিলনী ও গুণিজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান মঙ্গলবার (১৮জুন) সকাল ১০টায় ভাঙ্গারমূখ মধ্যম দিগরপানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সম্পন্ন হয়েছে।

রাইজিং স্টার ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুহাম্মদ রাইহানুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বোর্ড সেক্রেটারিট ডিভিশন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, মজিদিয়া দারুচ্ছুন্নাহ পৌর দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা নুরুল আবছার ছিদ্দিকি, সাপ্লাই সেইন কেন পার্ক রিজেন্সি বাংলাদেশ সহকারী ব্যবস্থপক মোহাম্মদ সাজ্জাত জুয়েল, চট্টগ্রাম জেলা দায়রা জজ আদলতের সহযোগী সরকারি আইনজীবী আহমেদ মিরাজ, সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন ফয়সাল, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ছৈয়দ মুহাম্মদ রাসেল, মায়ের ছোঁয়া কন্স্ট্রাকশনের সিইও মুহাম্মদ রেজাউল করীম, চকরিয়া নূরানী কাফেলার সেক্রেটারি মু. এহেছানুল হক, স্বপ্নচুড়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুহাম্মদ শাওন কবির হ্যাভেন, রাইজিং স্টার ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মোহাম্মদ সোহেল রানা পারভেজ।

এসময় দৈনিক বাংলাদেশের আলো চকরিয়া-পেকুয়া প্রতিনিধি ও জনপ্রিয় ফেসবুক অনলাইন সময়ের সংবাদের সম্পাদক শাহরিয়ার মাহমুদ রিয়াদ, ক্রাইম রিপোর্টার মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ, দৈনিক বিকাল বার্তা চকরিয়া প্রতিনিধি মুহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম সানিসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিসহ গুণিজনদের হাতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।

পরে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন চকরিয়া সোসাইটি শাহী জামে মসজিদের খতিব ও কাকারা তাজুল উলুম দাখিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা হাফেজ বশির আহমদ।
সমাজে সুবিধা বঞ্চিতদের সফল অভিভাবক মানবিক সমাজকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস

সমাজে সুবিধা বঞ্চিতদের সফল অভিভাবক মানবিক সমাজকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস

বিশেষ প্রতিবেদক : 

অদম্য ইচ্ছাশক্তিই জান্নাতুল ফেরদৌসকে সমাজে পিছিয়ে পড়া অবহেলিত সুবিধা বঞ্চিত মানুষগুলোর সফল অভিভাবকে পরিণত করেছে। লেগে থেকে মানুষের কল্যাণের জন্য খাটতে পারাটাই তার স্বার্থকতা। তার কাছে মানবিক হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল উদ্দেশ্য লক্ষ্য। এমনই একজন কর্ম উদ্যোমী সংগ্রামী নারীর নাম ইসলামপুরের জান্নাতুল ফেরদৌস।

জন্ম ও পরিচয় : কক্সবাজারের নতুন উপজেলা ঈদগাঁও ইসলামপুর ইউনিয়নের বামনকাটা গ্রামে ১৯৭৯ সালে ১০জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসা থেকে ১৯৯৩ সালে আলিম পাস করেন। সামাজিক ও পারিবারিক নানান বাধা বিপত্তির মুখেও তখন থেকে পরোপকারী মনোভাব পোষণ করেই চলতেন এই নারী। অন্যের ভালোতে তিনি মানসিক তৃপ্তি অনুভব করতেন। কম বয়সে ছোট খাটো সমাজসেবার মাঝপথে তিনি ১৯৯৯ সালে একই এলাকার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের এক সন্তানের সাথে বিবাহ বন্ধণে আবদ্ধ হয়ে সংসার জীবন শুরু করেন। 

অপরাজিতার সাথে যুক্ত ও প্রশিক্ষণ : ২০১৬ সালের তিনি অপরাজিতা প্রকল্পে যুক্ত হন। অপরাজিতার সাথে যুক্ত হওয়ার ফলে জান্নাতুল ফেরদৌস বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকেন। 

প্রশিক্ষণ জ্ঞান কার্যক্রম বাস্তবায়ন:  প্রশিক্ষণ থেকে জ্ঞান লাভ করার ফলে একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে সরাসরি মানুষের সেবা করার জন্য ২০১৬ সালের সংরক্ষিত আসনে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করে বিজয় লাভ করেন। অপরাজিতার কাছ থেকে প্রশিক্ষণের পর তিনি সমাজের সুবিধা বঞ্চিত কারা তাদের জানতে পারেন। তার প্রথম টার্গেট ছিল ইউনিয়ন এবং উপজেলা পরিষদের সেবাপ্রদানকারীদের  সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। অপরাজিতার বিভিন্ন সভা ও প্রশিক্ষণে তাদের সাথে পরিচয় হওয়ার সুযোগ হয়। যার ফলে তিনি তার তিন ওয়ার্ডে যারা বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছে তাদের তালিকা করেন। তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে তাদেরকে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা করেন। যারা প্রতিবন্ধি তাদেরকে তিনি সবচেয়ে দুর্বল মনে করেন। তার পূর্বে যিনি জনপ্রতিনিধি ছিল তিনি সুবিধাবঞ্চিদের তেমন মূল্যায়ন করতেন না। ওইসব বৈষম্যমূলক আচরণের কথা মাথায় রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগিয়ে তিনি ১০০জন প্রতিবন্ধীকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন। তার এলাকায় প্রায় প্রতিবন্ধী এখন ভাতার আওতায় চলে এসেছে। তিনি ২০০ জন গর্ভবতী মহিলাকে গর্ভকালীন সেবা নিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে পাঠাতে সহযোগিতা করেন। জন কিশোরীদের টিটি টিকার আওতায় আনেন। ৬০০ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমি নাশক ক্যাপসুল খাওয়াতে সহযোগিতা  করেন। ৪০ জন মহিলাকে মাতৃত্বকালীন ভাতা, ১৫ জন মহিলাকে বিধবা ভাতা, এলাকার অবকাঠামুগত উন্নয়নের জন্য ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। এইসব কাজ তিনি দক্ষতার সাথে করার জন্য  করার জন্য তিনি বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ এর দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি ইউনিয়ন পরিষদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি, স্থানীয় মাদরাসা পরিচালনা  কমিটির সভাপতি, কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি, ইউনিয়ন অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সভাপতি এবং উপজেলা ও অপরাজিতা নেটওয়ার্কের নির্বাহী সদস্য। 

পরিশেষে বলা যায় জান্নাতুল ফেরদৌস একজন অপরাজেয় নারী প্রতিনিধি। তিনি মনে করেন মানুষের সেবা করতে টাকা লাগেনা; মনের ইচ্ছা শক্তিই যথেষ্ট। তিনি মনে করেন; মানুষের সেবা করতে পারলে মনের মধ্যে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।