Showing posts with label মানবতা. Show all posts
Showing posts with label মানবতা. Show all posts
রাঙ্গামাটি লংদুতে বজ্রপাতে নিহত পাঁচ পরিবারে আমীরে জামায়াতের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা

রাঙ্গামাটি লংদুতে বজ্রপাতে নিহত পাঁচ পরিবারে আমীরে জামায়াতের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা

বার্তা পরিবেশক : 

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির দূর্গম এলাকা লংগদু উপজেলাধীন ভাসান্যাদম ও করল্যাছড়িতে বজ্রপাতে মারা যাওয়া ৫জনের পরিবারের মাঝে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মানবিক নেতা ডাঃ শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। 

শনিবার (২৯জুন) জামায়াতে ইসলামী লংগদু উপজেলা আমীর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে প্রতি পরিবারের স্বজনদের হাতে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। 

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ আবদুল আলীম। এসময় জেলা সহকারী সেক্রেটারি মনছুরুল হক, জেলা প্রচার সেক্রেটারি এডভোকেট হারুনুর রশীদ, উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা এ.এল.এম সিরাজুল ইসলাম, জামায়াত নেতা খন্দকার মতিউর রহমান, ডা. ছিদ্দিকুর রহমান খোকনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

সমাজে সুবিধা বঞ্চিতদের সফল অভিভাবক মানবিক সমাজকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস

সমাজে সুবিধা বঞ্চিতদের সফল অভিভাবক মানবিক সমাজকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস

বিশেষ প্রতিবেদক : 

অদম্য ইচ্ছাশক্তিই জান্নাতুল ফেরদৌসকে সমাজে পিছিয়ে পড়া অবহেলিত সুবিধা বঞ্চিত মানুষগুলোর সফল অভিভাবকে পরিণত করেছে। লেগে থেকে মানুষের কল্যাণের জন্য খাটতে পারাটাই তার স্বার্থকতা। তার কাছে মানবিক হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল উদ্দেশ্য লক্ষ্য। এমনই একজন কর্ম উদ্যোমী সংগ্রামী নারীর নাম ইসলামপুরের জান্নাতুল ফেরদৌস।

জন্ম ও পরিচয় : কক্সবাজারের নতুন উপজেলা ঈদগাঁও ইসলামপুর ইউনিয়নের বামনকাটা গ্রামে ১৯৭৯ সালে ১০জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসা থেকে ১৯৯৩ সালে আলিম পাস করেন। সামাজিক ও পারিবারিক নানান বাধা বিপত্তির মুখেও তখন থেকে পরোপকারী মনোভাব পোষণ করেই চলতেন এই নারী। অন্যের ভালোতে তিনি মানসিক তৃপ্তি অনুভব করতেন। কম বয়সে ছোট খাটো সমাজসেবার মাঝপথে তিনি ১৯৯৯ সালে একই এলাকার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের এক সন্তানের সাথে বিবাহ বন্ধণে আবদ্ধ হয়ে সংসার জীবন শুরু করেন। 

অপরাজিতার সাথে যুক্ত ও প্রশিক্ষণ : ২০১৬ সালের তিনি অপরাজিতা প্রকল্পে যুক্ত হন। অপরাজিতার সাথে যুক্ত হওয়ার ফলে জান্নাতুল ফেরদৌস বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকেন। 

প্রশিক্ষণ জ্ঞান কার্যক্রম বাস্তবায়ন:  প্রশিক্ষণ থেকে জ্ঞান লাভ করার ফলে একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে সরাসরি মানুষের সেবা করার জন্য ২০১৬ সালের সংরক্ষিত আসনে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করে বিজয় লাভ করেন। অপরাজিতার কাছ থেকে প্রশিক্ষণের পর তিনি সমাজের সুবিধা বঞ্চিত কারা তাদের জানতে পারেন। তার প্রথম টার্গেট ছিল ইউনিয়ন এবং উপজেলা পরিষদের সেবাপ্রদানকারীদের  সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। অপরাজিতার বিভিন্ন সভা ও প্রশিক্ষণে তাদের সাথে পরিচয় হওয়ার সুযোগ হয়। যার ফলে তিনি তার তিন ওয়ার্ডে যারা বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছে তাদের তালিকা করেন। তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে তাদেরকে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা করেন। যারা প্রতিবন্ধি তাদেরকে তিনি সবচেয়ে দুর্বল মনে করেন। তার পূর্বে যিনি জনপ্রতিনিধি ছিল তিনি সুবিধাবঞ্চিদের তেমন মূল্যায়ন করতেন না। ওইসব বৈষম্যমূলক আচরণের কথা মাথায় রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগিয়ে তিনি ১০০জন প্রতিবন্ধীকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন। তার এলাকায় প্রায় প্রতিবন্ধী এখন ভাতার আওতায় চলে এসেছে। তিনি ২০০ জন গর্ভবতী মহিলাকে গর্ভকালীন সেবা নিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে পাঠাতে সহযোগিতা করেন। জন কিশোরীদের টিটি টিকার আওতায় আনেন। ৬০০ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমি নাশক ক্যাপসুল খাওয়াতে সহযোগিতা  করেন। ৪০ জন মহিলাকে মাতৃত্বকালীন ভাতা, ১৫ জন মহিলাকে বিধবা ভাতা, এলাকার অবকাঠামুগত উন্নয়নের জন্য ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। এইসব কাজ তিনি দক্ষতার সাথে করার জন্য  করার জন্য তিনি বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ এর দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি ইউনিয়ন পরিষদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি, স্থানীয় মাদরাসা পরিচালনা  কমিটির সভাপতি, কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি, ইউনিয়ন অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সভাপতি এবং উপজেলা ও অপরাজিতা নেটওয়ার্কের নির্বাহী সদস্য। 

পরিশেষে বলা যায় জান্নাতুল ফেরদৌস একজন অপরাজেয় নারী প্রতিনিধি। তিনি মনে করেন মানুষের সেবা করতে টাকা লাগেনা; মনের ইচ্ছা শক্তিই যথেষ্ট। তিনি মনে করেন; মানুষের সেবা করতে পারলে মনের মধ্যে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।


চকরিয়ায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে পৌর জামায়াতের টিন বিতরণ

চকরিয়ায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে পৌর জামায়াতের টিন বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সম্প্রতি কাল বৈশাখি ঝড়ে গাছপালা পড়ে বসতঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ডের জামায়াত কর্মী মো. কুতুব উদ্দিনের পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে টিন বিতরণ করেছেন জামায়াতে ইসলামী চকরিয়া পৌরসভা। 

শুক্রবার (২৪ মে) দুপুরে চকরিয়া পৌরসভা জামায়াতের আমীর বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আরিফুল কবিরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির হাতে এসব টিন তুলে দেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন ফারুকী। 

এসময় চকরিয়া পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর মো. ফখরুল ইসলাম, ৮নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. সৈয়দ আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

ইকুনোর কঠোর পরিশ্রম সমাজে সফল নারী নেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে

ইকুনোর কঠোর পরিশ্রম সমাজে সফল নারী নেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সামাজিক বৈষম্য ও আত্মবিশ্বাস না হারিয়ে অসহায় ও দরিদ্র নারী সমাজের সম্মান ও সমান অধিকারের দিকে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ হন রোকসানা আক্তার ইকুনো। সমাজের সাহায্য এবং নিজের সাহসের জোরে রোকসানা অপরাজিতা নারীকে এক নতুন দিশা দেখাতে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। একজন মহিলা, অপরাজিতার, কোন কিছুই তাকে বিরক্ত করতে পারেনি। কারণ শক্ত হওয়ার জন্য তার ছিল সীমাহীন চেষ্টা। ক্ষমতা, শিক্ষা, বিশ্বাস এবং ইচ্ছাশক্তির প্রচেষ্টা তার নিজস্ব গল্প তৈরি করেছে এবং সমাজের কাছ থেকে তার স্বামীর সমর্থন ও সমর্থনে তিনি এখন ক্ষমতা ও সম্মানের সাথে নারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সমাজ পরিবর্তনে অবদান রাখছেন। তিনি বলেন, অপরাজিতা প্রকল্প সব সময় আমার সঙ্গে লেগে আছে, আমার সাহস, ইচ্ছাশক্তি, স্বামীর সমর্থন এবং কঠোর পরিশ্রম আমাকে অন্যতম ক্ষমতাশালী নারী নেত্রী হিসেবে স্থায়ী করে তুলেছে। পাশাপাশি সমাজের মানুষের মনোভাব আমাদের সমাজ পরিবর্তনে নারীদের সফল হওয়ার পথ প্রশস্ত করতে সহায়তা করছে। 

পরিচয় জন্ম ও শিক্ষা:

১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নিদানিয়াপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে সাধারণ নারী হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন রোকসানা আক্তার ইকুনো। বিয়ের পর নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও অপরাজিতা ২০১৯ সালে এই প্রকল্পে যোগ দিয়ে প্রকল্পের পক্ষ থেকে প্রদত্ত সবধরনের প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে উক্ত বিষয়গুলোতে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হয় তিনি।

কার্যক্রম বাস্তবায়ন: 

অপরাজিতা ইকুনো অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পালংখালী ইউনিয়নে অংশগ্রহণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। মেয়ে হয়েও বাবার সঙ্গে নিয়মিত সালিশে যেতেন। তার স্বপ্ন ছিল একজন সমাজকর্মী হয়ে গ্রামের অসহায় মানুষের সেবা করা এবং একজন আত্মবিশ্বাসী সফল নারী নেত্রী হওয়া। তাই এলাকার হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়নের সহায়তায় তিনি সামাজিক-রাজনৈতিক অর্থনৈতিক কর্মকা- করে এলাকার অসহায় দরিদ্র মানুষের প্রিয় ব্যক্তিতে পরিণত হন এবং এগিয়ে যাওয়ার জন্য অসহায় স্বামী হারানো বিধবাদের তালিকা তৈরি করেন এবং উপজেলা সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দশজনকে বিধবা ভাতা পেতে সহায়তা করেন। এলাকার প্রায় ৫০ জন দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত ছেলে-মেয়ে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করেন। তিনি তাদের স্কুলে ভর্তি দেখাতে সাহায্য করতেন। 

তিনি বাল্যবিবাহ বন্ধ, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে আটটি ট্রায়ালে অংশ নিয়ে সফলতার সাথে সমস্যা সমাধানে মতামত ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় প্রশাসনের সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নকে সমর্থন করে তিনি সর্বদা লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে অবদান রেখেছেন। জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে ২৮০ জন ৯৯৯ জন ও ১০৯  জন নারীকে নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতন করতে পেরেছেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য। ইকুনো ইউনিয়ন ও উপজেলা অপরাজিতা নেটওয়ার্কের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

তিনি উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে একজন আদর্শ কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে অপরাজিতা প্রকল্পের বিভিন্ন কমিটি ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে সমাজ পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যান। তার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সহায়তায় তিনি সমাজে পরিবর্তন এনেছিলেন। তিনি নারীর সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করেন। তার ইচ্ছাশক্তি ও সাহসের মাধ্যমে তিনি নারীর ক্ষমতা ও মর্যাদার লড়াইয়ে অগ্রগতি অর্জন করেছিলেন। যেখানে নারীরা বঞ্চিত ছিল এবং তার কার্যকলাপ একটি সুস্থ ও সক্রিয় সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। 

পরিশেষে বলা যায়, প্রত্যন্ত গৃহবধু থেকে পালংখালী ইউনিয়নের অন্যতম অপরাজেয় মানুষ হিসেবে সমাজে অবদান রেখে চলেছেন ইকুনো। আর অপরাজিতা এসে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ইতিবাচক চিন্তা ভাবনার কারণে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে প্রমাণ করেছেন; আমরা ঘরের বাইরের নারী। তার সাফল্যের গল্প সমাজের অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা ও অনুকরণীয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।


আরিফুল ইসলাম খোকার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে ডুলাহাজারা প্রবাসী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন

আরিফুল ইসলাম খোকার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে ডুলাহাজারা প্রবাসী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রবাসী আরিফুল ইসলাম খোকার নেতৃত্বে ডুলাহাজারা প্রবাসী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন মানবিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এগিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে। প্রশংসনীয় সফলতা পাচ্ছে মাবনিক এ প্রতিষ্ঠানটি। চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বালুরচর ষোলহিচ্ছা গ্রামের জনৈক মঞ্জুর আলমের ছেলে আরিফুল ইসলাম খোকা এ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আরিফুল ইসলাম খোকা জীবিকার তাকিদে পরিবার পরিজন ছেড়ে ২০১২ সাল থেকে দুবাইতে রয়েছেন প্রবাসী হিসেবে। নিজ কর্মের পাশাপাশি সমাজ তথা নিজ এলাকার অবহেলিত মানুষের কল্যাণে কিভাবে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার যায়; তার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ডুলাহাজারা প্রবাসী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে মানবিক সংগঠন। তিনি ২০১৭ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ডুলাহাজারার প্রবাসী বন্ধু ও বড়ভাইয়ের নিয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে এই সংগঠনের ব্যানারে থেকে পরিচালনা করে আসছেন কল্যাণমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম। সেই সুবাধে সংগঠনটির দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে ডুলাহাজারা প্রবাসী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তরুণ উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম খোকার আহবানে সাড়া দিয়ে মানবিক কার্যক্রমের সারথি হতে বিভিন্ন পদে দায়িত্বপ্রাপ্তসহ রয়েছে অর্ধশতাধিক সদস্য।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিফুল ইসলাম খোকা বলেন, একটি মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে অসহায় অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ডুলাহাজারা প্রবাসী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু করি। এই সংগঠন নিয়ে আমি অনেক পরিশ্রম করেছি।

সাংগঠনিক কার্যক্রম তথা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্য রাতদিন নিরলস সময় দিয়েছি। বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলে পরামর্শও নিয়েছি।

আজ নিজেকে গর্বিত মনে হয় যে; আমার হাতে গড়া একটি সংগঠন অত্র ইউনিয়নের গরিব অসহায় মানুষদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারতেছি এই সংগঠনের মাধ্যমে। এই সংগঠনের মূল কাজই হচ্ছে অসহায়দের পাশে থেকে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

তিনি জানান, গরিব মানুষের মেয়ে যে গুলো বিয়ে দিতে পারছেন না; তাদেরকে আমরা অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করার মাধ্যমে বিয়ের ব্যবস্থা করা। আমাদের ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত যে সমস্ত গরিব অসহায় মানুষ রয়েছেন তন্মধ্যে অসুস্থ হলে অর্থ সহযোগিতা দিয়ে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। পবিত্র রমজান মাসে ইউনিয়নের যে সমস্ত অবহেলিত মানুষ রয়েছেন তাদের মাঝে প্রত্যেক বছর রমজানের ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা। এভাবে অন্যান্য আরো সামাজিক যেগুলো ভালো কাজ আছে প্রত্যেক কাজে আমরা যতটুকু পারি সাহায্য সহযোগিতা করে থাকি।

তিনি বলেন, আমাদের ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত যে সকল প্রবাসী ভাইয়েরা রয়েছেন; আপনারাও চাইলে আমাদের এই ফাউন্ডেশনের সদস্য হতে পারবেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সকলকে সঙ্গে নিয়ে এই ফাউন্ডেশন একদিন বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য, নতুন করে কেউ যদি সদস্য হতে চান আপনারা বর্তমান যে কমিটি রয়েছে; তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। সভাপতি- মোঃ শাহজাহান (+971 55 789 0327), সাধারণ সম্পাদক- নজরুল ইসলাম (+971 56 744 2562) ও সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আজিম (+966550852162)।

ডুলাহাজারা প্রবাসী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নতুন কমিটি অনুমোদন

ডুলাহাজারা প্রবাসী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নতুন কমিটি অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ডুলাহাজারা ইউনিয়নের সর্বস্তরের প্রবাসীদের স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠন ডুলাহাজারা প্রবাসী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ২০২৪-২০২৫ সেশনে এক বছরের জন্য নতুন পরিচালনা কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সোমবার (২২এপ্রিল) ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা হায়দার মোস্তফা লাভলু ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিফুল ইসলাম খোকা’র যৌথ সাক্ষরিত সাংগঠনিক প্যাডে ৭সদস্য বিশিষ্ট অনুমোদিত কমিটি ঘোষণা করা হয়। 

এতে মোহাম্মদ শাহজাহানকে সভাপতি এবং নজরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। অন্যান্য পদে মনোনীত কর্মকর্তারা হলেন; সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলমাস, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ এরশাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার জামান মিরাজ, অর্থ সম্পাদক শেখ আলী আকবর ও সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আজিম। 

উল্লেখ্য, ডুলাহাজারার প্রবাসীদের সমন্বয়ে মানব কল্যাণমূলক সংগঠনটি তরুণ উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম খোকা’র হাত ধরে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এ সংগঠন এলাকার হতদরিদ্র অসহায় মানুষের কল্যাণে স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষ উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির নির্দেশনায় সকল সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতায় ডুলাহাজারা প্রবাসী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনটি সমাজে অবহেলিত জনগোষ্ঠির পাশে থেকে উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫বি১ বাংলাদেশের বার্ষিক বনভোজন সম্পন্ন

লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫বি১ বাংলাদেশের বার্ষিক বনভোজন সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার : 

লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ বি১,বাংলাদেশ এর প্রায় ৪ শতাধিক লায়ন ও লিওদের উপস্থিতিতে ঢাকার পূর্বাচল ৩০০ ফিট রোড সংলগ্ন সি-শেল পার্ক শনিবার (৯ মার্চ)  বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা গভর্ণর লায়ন মো: লুৎফর রহমান এম.জে.এফ স্বাগত বক্তব্যের মধ্যদিয়ে বেলুন উড়িয়ে উক্ত দিনটির শুভ সূচনা হয়।


পরবর্তীতে বার্ষিক বনভোজন কমিটির সুযোগ্য চেয়ারপারসন প্রাক্তন জেলা গভর্ণর লায়ন হেলেন আক্তার নাসরিন ও তার বনভোজন কমিটি অত্যান্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে, সকল লায়ন ও লিওদের জন্য সকলে নাস্তা পরিবেশনা, বাচ্চাদের বিস্কুট দৌড় খেলা, মহিলাদের ঝুরিতে বল নিক্ষেপ, পুরুষদের খালি বারে গোল কিক, মহিলাদের পিলো পাসিং, দুপুরের মজাদার খাবার, সন্ধ্যার নাস্তা, অত্যন্ত কোয়ালিটি সম্পন্ন গিফট দিয়ে রেফেল ড্রসহ মনোমুগ্ধকর সংগীত সন্ধ্যার মধ্যদিয়ে বার্ষিক বনভোজনের সমাপ্তি ঘটে।

উক্ত বার্ষিক বনভোজনে আইডি এন্ডোরসী প্রাক্তন জেলা গভর্ণর লায়ন নাজমুল হক পিএমজেএফ ও তার স্পাউস মৌলদা নাজমুল, কাউন্সিল চেয়ারপারসন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল ওহাব ও স্পাউস আফরোজা বেগম শোভা, সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিল চেয়ারপারসন লায়ন এস কে কামরুল এবং তার স্পাউস, জেলা ৩১৫ এ৩ এর সম্মানিত জেলা গভর্ণর লায়ন ফারহানা বক্স, জেলা ৩১৫ এ২ এর জেলা গভর্ণর বিচারপতি ড, মো: বশির উল্লাহ, প্রাক্তন কাউন্সিল চেয়ারপারসন রাসিদ শাহ সম্রাট এর স্পাউস নাজমা রশীদ নাজু, জেলা ৩১৫ বি১ এর ফাস্ট লেডি অফ দি ডিস্ট্রিক্ট লায়ন শিরিন আক্তার রুবি, প্রথম ভাইস জেলা গভর্ণর লায়ন আশরাফ হোসেন খান হিরা এমজেএফ ও তার স্পাউস ফাতেমা কাদির হুমা, দ্বিতীয় ভাইস জেলা গভর্ণর লায়ন ডঃ এ.কে.এম সারোয়ার জাহান জামিল এমজেএফ ও তার স্পাউস রোজিনা শাহিন মুনা, জেলা ৩১৫ এ২ এর সম্মানিত ১ম ভাইস জেলা গভর্ণর মোহাম্মদ হানিফ, জেলা ৩১৫ এ৩ এর সম্মানিত প্রথম ভাইস জেলা গভর্ণর মো: সামসুল আলম, জেলা ৩১৫ বি১ এর  এর ডিজি অনারারী কমিটি চেয়ারপারসন ও প্রাক্তন জেলা গভর্ণর লায়ন বেনাজির আহম্মেদ পিএমজেএফ, 

প্রাক্তন জেলা গভর্ণর ও প্রাক্তন কাউন্সিল চেয়ারপারসন ইকবাল এইচ খান, প্রাক্তন জেলা গভর্ণর ও প্রাক্তন কাউন্সিল চেয়ারপারসন নুরুল ইসলাম মোল্লা, প্রাক্তন জেলা গভর্ণর ও প্রাক্তন বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশন চেয়ারপারসন মজিবুল হক চুন্নু, প্রাক্তন জেলা গভর্ণর শফিকুল আজম ভূইয়া, প্রয়াত প্রাক্তন জেলা গভর্ণর মজিবর রহমান এর স্পাউস আমেনা ফেরদৌস মুনা, প্রাক্তন জেলা গভর্ণর লায়ন দেওয়ান নাসিরুল হকের স্পাউস প্রফেসর জুলেখা বেগম জুই, জেলা ৩১৫ বি৩ এর সস্মানিত প্রাক্তন জেলা গভর্ণর ওয়াহিদুর রহমান আজাদ, জেলা ৩১৫ এ১ এর সম্মানিত প্রাক্তন জেলা গভর্ণর সেলিম আহম্মেদ, 

বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারী জেনারেল নুরের রহমান ও তার স্পাউস, জেলা ৩১৫ বি১ এর কেবিনেট সেক্রেটারী লায়ন মো: আশিকুজ্জামান চৌধুরী ইমন ও তার স্পাউস আরফিন আজিজ সারিকা, কেবিনেট ট্রেজারার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও তার স্পাউস রোকসানা আক্তার, জেলা জিএলটি কো-অর্ডিনেটর লায়ন মশিউর আহম্মেদ, ডিস্ট্রিক্ট লিও ক্লাবস চেয়ারপারসন লায়ন মামুন আহম্মেদ ও তার স্পাউস, পিকনিক কমিটি কো-চেয়ারপারসন আব্দর রহিম ও তার স্পাউস, পিকনিক কমিটি কো-চেয়ারপারসন ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার পারভেজ সাগর ও তার স্পাউস, কমিটি সেক্রেটারী আশরাফুল ইসলাম শামীম ও তার স্পাউস, কমিটি ট্রেজারার নাসিমা আলম উপস্থিত হয়ে উক্ত অনুষ্ঠানকে আরো কালারফুল ও সাফল্য মণ্ডিত করেন। 

পরিশেষে জেলা গভর্ণর জেলার সকল লায়ন ও লিওদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই আয়োজন এই সফলতা জেলার সকল লায়ন ও লিওদের, আপনারা উপস্থিত হয়েই এই অনুষ্ঠানকে সাফল্য মণ্ডিত করেছেন, আগামীতের জেলার সকল কাজের পাশে থেকে এভাবেই জেলাকে প্রানবন্ত ও গতিশীল করে রাখবেন এই  আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আন্তরিক উপস্থিতির জন্য সকল লায়ন ও লিও নেতৃবৃন্দের আবারও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

রিক্সা-টমটম চালকের মাঝে হারবাং ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট ফোরামের ইফতার সামগ্রী বিতরণ

রিক্সা-টমটম চালকের মাঝে হারবাং ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট ফোরামের ইফতার সামগ্রী বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট ফোরামের উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমযান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে সাময়িক কষ্ট লাঘবে রিক্সা ও টমটম চালকদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মার্চ) বিকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার দেড়শতাধিক শ্রমজীবী চালকের মাঝে তেল, ছোলা, চিনি, মুড়ি ও পিয়াজসহ এসব ইফতার সামগ্রী প্রদান করা হয়। 

হারবাং ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট ফোরামের চেয়ারম্যান ছাত্রনেতা সাখাওয়াত হোসেন শিপনের সভাপতিত্বে ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হারবাং ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজসেবক মাওলানা শেখ আহমদ। এসময় শ্রমিক নেতা আনোয়ার আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চকরিয়ায় শীতার্তদের মাঝে উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদীর শীতবস্ত্র বিতরণ

চকরিয়ায় শীতার্তদের মাঝে উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদীর শীতবস্ত্র বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চকরিয়ায় উপজেলার বিভিন্নস্থানে হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী। 

বুধবার (১৭জানুয়ারি) ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৬শতাধিক দুঃস্থ মানুষের তিনি ঠাণ্ডা নিবারণী এসব শীতবস্ত্র তুলে দেন। এসময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাঈনুদ্দিন চৌধুরী, ইউপি সচিব ফয়সাল চৌধুরীসহ স্থানীয় গণমান্য মান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

শীতবস্ত্র বিতরণকালে উপজেলা চেয়ারম্যন ফজলুল করিম সাঈদী জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের অসহায় ও দুঃস্থ ৬০০ পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করেছি। ধারাবাহিকভাবে চকরিয়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী এবং আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।

প্রতিকূলতাকে জয় করে প্রশংসায় ভাসছে অবহেলিত তামান্না!

প্রতিকূলতাকে জয় করে প্রশংসায় ভাসছে অবহেলিত তামান্না!

চকরিয়া টাইমস : 

মানুষের জীবনে চলার পথে আসে নানা ধরনের বাধা। কিন্তু তাই বলে কি জীবন থেমে থাকবে! এমন অনেকেই আছেন যারা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যান সামনের দিকে। অর্জন করেন সফলতা। একজন সংগ্রামী অপ্রতিরোধ্য নারীর নামই হচ্ছে তামান্না। নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের মূর্ত প্রতীক অপরাজিতা তামান্না। কেবল নিজের অদম্য ইচ্ছাকে সম্বল করে চরম প্রতিকূলতাকে জয় করে তামান্না তৃণমূল থেকে সবার অলক্ষ্যে সমাজে নিজের জন্য জায়গা তৈরি করেছেন। তামান্না সব ধরনের বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সফল হয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন সমাজে অপরাজিতা নামে। অবহেলিত তামান্না এখন সমাজে সর্বজনে প্রশংসার পাত্র হিসেবে পরিচিত।

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ভোমাংখিল গ্রামে ১ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫ সালে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয় মোছাম্মৎ তামান্নার। মাত্র নবম শ্রেণীতে পড়াবস্থায় তার বিয়ে হয়। তবে লেখাপড়ার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ থাকায় স্বামীর সহযোগীতায় ১৯৯৯ সালে গর্জনিয়া ইসলামীয়া আলিম মাদরাসা থেকে অনেক বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে দাখিল পাস করেন। সেই সময়ে দাখিল পাশ করা তিনিই ওই এলাকার একজন শিক্ষিত নারী। কারণ তখনকার সময়ে ওই এলাকায় শিক্ষা বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রতি মানুষের ভ্রান্ত ধারণা ছিল। তিনি বর্তমানে তিন সন্তানের জননী। একজন শিক্ষিত মা হওয়ায় তিন সন্তানকেই শিক্ষিত করতে পেরেছেন। তিনি অনেক সংগ্রাম করে গড়ে উঠেছেন। অভাব-অনটন দুর করে পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য ২০০২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন এনজিওতে চাকরি করেন। বিভিন্ন এলাকায় বিচরণ করে লক্ষ্য করেন তার প্রতিবেশীরা প্রতিনিয়ত কারণে অকারণে নারীদের নির্যাতন করছেন। তিনি চিন্তা করেন কীভাবে এই নির্যাতন থেকে নারীদেরকে মুক্তি করা যায়। পাশাপাশি তার মত নারীদেরকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা যায়। নারীদের অধিকার নিয়ে তিনি কাজ করবেন। কিন্তু তিনি জানতো না যে অধিকার কী, কোথায় গেলে তার সঠিক বিচার পাবে। এই সমস্ত বিষয় জানার জন্য তিনি ২০১২সালে অপরাজিতা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রকল্পে যুক্ত হন। তখন তিনি এনজিও এর সহযোগীতায় গ্রামের দরিদ্র পরিবারকে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, মশারি, গভীর ও অগভীর নলকূপ এবং নিরাপদ পানির ট্যাপ বিনামূল্যে বিতরণ করেন। পাশাপাশি তিনি গর্ভবর্তী নারী ও কিশোরীদের সাথে স্বাস্থ্য সচেতন বিষয়ে নিয়মিত উঠান বৈঠক করেন। তার এসব কার্যক্রমের ফলে তিনি অল্প সময়ে তার এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। প্রকল্প থেকে বাস্তবায়িত সকল সভা ও প্রশিক্ষণে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। এসব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করার ফলে, তামান্না অনেকগুলি পদক্ষেপের ফলে ২০১৬ সালে তিনি কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনে ইউপি নির্বাচন করেন এবং বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেন। হয়ে উঠেন নিজ এলাকায় একজন যোগ্য সমাজসেবক। যার ফলে তিনি নিজ প্রচেষ্টায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতায় তিনটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন, ১৪৫টি উঠান বৈঠক  করেন, ৩২ জনকে বয়স্ক ভাতা, ৯ জনকে বিধবা ভাতা, ১১ জনকে প্রতিবন্ধী ভাতা, সাত জনকে মাতৃত্বকালীন ভাতা, ৭৫টি পারিবারিক বিরোধ নিরসন, ৬ হাজারেরও বেশী লোককে সরকারি হট লিংক নং ৯৯৯ ও ১০৯ কল করতে সচেতন করেন। 

মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সহজ করতে তার এই মহৎ উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত। তার এই কার্যক্রমের ফলে এলাকায় অনেকটা নারী নির্যাতন ও বাল্য বিবাহ কমে এসেছে। এইসব কাজ করার পেছনে তার দক্ষতা আরো বেড়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় নিজেকে একজন বড় মানের নারী নেত্রী হিসেবে স্থাপন করার ইচ্ছা এবং সামাজিক উন্নয়নে তার যোগদান রাজনৈতিক ক্ষমতার মূর্তপ্রতিক হয়েছে, তিনি বর্তমানে ইউনিয়ন অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সভাপতি, উপজেলা অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি ও জেলা অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়াও তিনি কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন বিএনপি মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা। ইউনিয়ন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য। গ্রামের নারীদের নিয়ে তিনি সংগঠন তৈরী করেছেন তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভাপতি, এক্সিলেন্ট ওয়াল্ড এর মার্কেটিং অফিসার, বড় জুমছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য  ও দক্ষিণ কচ্চপিয়া হাজিপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সহ-সভাপতি  হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার সাফল্যের মূলমন্ত্র হিসেবে অপরাজিতা প্রকল্পকে মনে করেন। তিনি আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ আসন নির্বাচন করবেন। তার মানবিক এবং সমাজসেবা এক নতুন সমাজের নির্মাণে তার মৌলধর অসামান্য অবদান রয়েছে। 

এব্যাপারে মোছাম্মৎ তামান্না বলেন, সংসারের অভাব-অনটনের পাশাপাশি অপরাজিতা প্রকল্প আমাকে প্রতিষ্ঠিত হতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। আমাকে সামনের দিকে নিয়ে গেছে। একসময় আমি যাদের কাছে ছিলাম অবহেলিত, আজ তারাই আমার কাজের প্রশংসা করছে। অসীম সাহসের সাথে জীবনের সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। সকল চ্যালেঞ্জ ও অপ্রতিকূল পরিবেশে আমি অদম্য ইচ্ছাকে সম্বল করে চরম প্রতিকূলতাকে জয় করেছি।


মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৮ম বর্ষপূর্তি উদযাপন

মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৮ম বর্ষপূর্তি উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

চকরিয়ার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৮ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান শুক্রবার (২২ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় চকরিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারের হল রুমে সম্পন্ন হয়েছে। 

মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি এইচ.এম রুহুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক পূর্বকোণের স্টাফ রিপোর্টার এম. জাহেদ চৌধুরী। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন ভোরের কাগজের চকরিয়া প্রতিনিধি মিজবাউল হক, বিশিষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক জিয়াউদ্দিন জিয়া, সিনিয়র সাংবাদিক শাহরিয়ার মাহমুদ রিয়াদ ও নারী উদ্যোক্তা ফরিদা ইয়াসমিন। পুরো অনুষ্ঠান সার্বিক ব্যাবস্থপনার দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ সম্পাদক ইসফাতুল ইসলাম জিসান।

এসময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

এছাড়া সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চকরিয়া ব্লাড ডোনেটিং, পিসফুল ইউনাইটেড ক্লাবসহ উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। 

অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ বলেন, চকরিয়া উপজেলাতে মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অনেক অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। বিশেষ করে অসহায় মানুষকে রক্তদান, বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাড়ানো, বৃক্ষ রোপণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী উপহার দিয়ে সাধারণ মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছে।

সমাজে অবহেলিত নারীদের অনুপ্রেরণা একজন ফিরোজা হাকিম

সমাজে অবহেলিত নারীদের অনুপ্রেরণা একজন ফিরোজা হাকিম

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ছোটবেলা থেকে অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন নারী ফিরোজা হাকিম। তিনি অনুধাবন করতে পারেন নারীকে স্বাবলম্বী হতে হলে বিভিন্ন কাজ জানতে করতে হবে। তাই তিনি বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি এসে, শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামীর সাথে পরামর্শক্রমে আত্মনির্ভরশীল বিভিন্ন কাজের উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করেন। যাতে কারো দ্বারস্থ হতে না হয়। সমাজে নিজের অবস্থানকে সমুন্নত রাখতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যান অপ্রতিরোধ্য ফিরোজা হাকিম।  

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যুগ যুগ ধরে নারীরা নানা বঞ্চনার শিকার। অসংখ্য প্রতিকূল সময় পাড়ি দিতে হয় নারীদের। এ সমাজে নারীদের পারিবারিক ও সামাজিকভাবে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। তবে সকল সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নারীরা এখন মাথা উচু করে দাঁড়াবার কল্যাণমুখী কৌশল রপ্ত করেছে। নারীরা হিমালয়ও জয় করেছে; অভিযানে যাচ্ছেন মহাকাশে। এছাড়া নিজ মেধা ও পরিশ্রমে দেশের নারীরাও হয়ে উঠছেন অপরাজিতা। একজন নারী হিসেবে ফিরোজা হাকিম তার অনন্য উদাহরণ। সমাজের অবহেলিত অসংখ্য নারীদের অনুপ্রেরণা যোগাবে ফিরোজা হাকিমের অপরাজিতা হবার সফলতার নেপথ্যে গুচ্ছগল্পগুলো। 

তিনি নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আনসার ভিডিপির প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রাণিসম্পদ থেকে হাঁস মুরগী পালনের উপর উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং মৎস্য অধিদপ্তর থেকে মৎস্য চাষের উপর প্রশিক্ষণ নেন। ব্র্যাক থেকে স্বাস্থ্য সেবিকার প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাস্থ্য সেবিকার কাজ শুরু করেন। এছাড়া যুব উন্নয়ন থেকে হস্তশিল্প ও গবাদিপশু পালনের উপর প্রশিক্ষণ করেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ বিউটিশিয়ান ও ব্লক বাটিকের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি ২০১৬ সালে সাহারবিল ইউনিয়নে সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচন করেন এবং কালো টাকা ও পেশী শক্তির কাছে তিনি হেরে যান। ২০১৯ সালে অপরাজিতা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রকল্পে যুক্ত হন। অপরাজিতার সাথে যুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং ইউনিয়ন অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি উপজেলা অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।

ফিরোজা হাকিম নানাবিধ প্রশিক্ষণ গ্রহণের ফলে তিনি নিজেই একটি সাহারবিল নারীকল্যাণ সংঘ নামের সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। যা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত। তিনি অনুধাবন করেন যে নারীরা শুধু সংসার ও সন্তান নিয়ে ব্যস্ত থাকেন এবং পরিবারের সদস্য দ্বারা নির্যাতিত হন, পরিবার ও সমাজে তারা কোন অবদানকে মূল্যায়ন কওে না। তাদের সেই বিভীষিকার জীবন মুছে দেয়ার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন । বর্তমানে তার নারী কল্যাণ সংগঠনে ৪০জন নারী ব্লক বাটিক ও হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সেখানে তিনি প্রশিক্ষকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তার সংগঠন থেকে এ পর্যন্ত ২হাজারের বেশি নারী বিভিন্ন কাজের উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছে। 

ফিরোজা হাকিম একজন উদার মনের মানুষ। এ সংগঠন থেকে গরীব ও অসহায় নারীদের প্রশিক্ষণের জন্য নেয়া হয় না কোন টাকা । তার এ জীবনযাত্রায় অনেক সফলতার গল্প লুকিয়ে আছে। তিনি নিজ উদ্যোগে তৈরি করা প্রতিষ্ঠানে ৬ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারেন। ফিরোজা হাকিম এ সকল কাজের পাশাপাশি তিনি সামাজিক কাজ, যেমন বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন ৫টি, নারীদের বহুমুখি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে ২০টি উঠান বৈঠক করেন, পারিবারিক বিরোধ নিরসন করেন ৩০টি। তিনি নির্বাচিত নারী প্রতিনিধি না হয়েও এলাকার মানুষকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে সহযোগিতা করেন, বিশেষ করে যুবদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি যুবদের, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং আনসার ভিডিপি থেকে প্রশিক্ষণ পেতে সহযোগিতা করেন। 

অপরাজিতা ফিরোজা হাকিম তিনি তার এলাকার ২৫ জন যুবদের আইসিটি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে সহযোগিতা করেন। তিনি ব্যবস্থাপনার উপরে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ করান ৩০ জনকে। সামাজিক কাজ করতে গিয়ে তিনি অনেক বাঁধার সম্মুখীনও হয়েছেন। কিন্তু তিনি সব বাঁধা অতিক্রম করে আপন মহিমায় সামনের দিকে এগিয়ে চলেছেন দুর্বার গতিতে। ফিরোজা হাকিম একজন সময়ের সাহসী নারী হিসেবেও সর্বজনের কাছে পরিচিত। তিনি ২০১৯ সালে সমাজ উন্নয়েনে অসাধারণ অবদান রেখেছেন যে নারী ক্যাটাগরিতে জয়ীতা পুরস্কার পেয়েছেন। তার সাফল্যের পেছনে তার স্বামীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অবদান রয়েছে। 

ফিরোজা হাকিম বিভিন্ন সংগঠনের কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদের পারিবারিক বিরোধ নিরসন নারী ও শিশু কল্যান স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং আর.কে নুরুল আমিন চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন। তিনি উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুবদের প্রশিক্ষণের কমিটিতে আছেন। তিনি সমাজের পিছিয়ে পরা নারীদের এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। ফিরোজা হাকিমের আগামী দিনের স্বপ্ন; তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ভোট করবেন। চকরিয়া উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণ ফিরোজা হাকিমকে এক নামে চিনে। তিনি সকল সময়ে সামাজিক কর্মসূচি এবং মানবিক সেবা করার জন্য নিবেদিত। 

জয়িতা ফিরোজা হাকিম বলেন “নারীদের নিজেদের অধিকার অর্জনে সোচ্চার হতে হবে। অধিকার কেউ দেয় না, অর্জন করে নিতে হয়। প্রত্যেক সংগ্রামী নারী একজন অপরাজিতা। তিনি বলেন, অনেকের সংগ্রামের গল্প ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু কমবেশি সব নারীর সংগ্রাম একই। অপরাজিতা মানে বিজয়ী। পরাজয়ে ভেঙ্গে না পড়ে অদম্য মনোবলে প্রতিকূলতা পেরিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নারীরাই অপরাজিতা। প্রতিকূলতা, নির্যাতন, অবহেলা পেরিয়ে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিতদের সংগ্রামের করুণ গল্প জেন্ডার বৈষম্যহীন সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে হলে নারীর ক্ষমতায়নের বিকল্প নেই”। 


অদম্য কর্মস্পৃহায় থেমে থাকেনি বুলবুল জান্নাতের সাফল্যের যাত্রা

অদম্য কর্মস্পৃহায় থেমে থাকেনি বুলবুল জান্নাতের সাফল্যের যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজে নারীরা নানা বঞ্চনার শিকার। এ সমাজে নারীদের পারিবারিক ও সামাজিকভাবে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। তবে সকল সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে নারীরা এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছেন। এছাড়া নিজ মেধা ও পরিশ্রমে দেশের নারীরাও হয়ে উঠছেন অপরাজিতা। শত প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অদম্য কর্মদ্যোমী বুলবুল জান্নাতও এ ধরনের একজন অপরাজিতা নারী হিসেবে নিজেকে সমাজে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। 

নাম বুলবুল জান্নাত; পিতা মৃত আবু সৈয়দ ও মাতা মোছাম্মদ রহিমা খাতুন। তিনি ১৯৮০ সালের ১২জুলাই চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড নয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৪ সালে সাহারবিল বিএমএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতীত্বের সাথে অষ্টম শ্রেণী পাস করে নবম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন। পড়ালেখা চলাকালীণ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন বিএমচর ৬নং ঘোনা এলাকার আব্দুল্লাহর সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সংসার জীবনে তিনি এক মেয়ে ও তিন ছেলে সন্তানের জননী। 

বুলবুল জান্নাত ২০১১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১, ২, ৩নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু কিছু সংখ্যক ভোটে তিনি হেরে যান। হেরে গিয়েও শক্ত মনোবলের কাছে হারেননি বুলবুল জান্নাত। কোন অংশে থেমে থাকেনি সমাজসেবা থেকে শুরু করে সামাজিক কার্যক্রম। তাই তিনি সমাজের বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে ২০১৬ সালে তিনি আবার নির্বাচন করেন এবং এতে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি নির্বাচিত নারী প্রতিনিধি। তার সকল কাজে তার স্বামী ও পরিবার সহযোগিতা করে থাকেন। তারা যদি তাকে সহযোগিতা না করতেন তাহলে তিনি আজ এতদূর আসতে পারতেন না বলে তিনি জানান। তিনি ২০১৯ সালে অপরাজিতা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রকল্পে যুক্ত হন অপরাজিতার সাথে যুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি কোচিং মেন্টরিং, নেতৃত্ব বিকাশ নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের দায়িত্ব কর্তব্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি বেসরকারি কমিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ, লিডারশিপ অ্যাডভোকেটি নেটওয়ার্কিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে মত বিনিময় সভাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

কার্যক্রম: এ সকল প্রশিক্ষণ ও সভায় অংশগ্রহণের ফলে বুলবুল জান্নাতের কাজের দক্ষতা আগের চেয়ে অনেক গুণ বেড়ে যায়। তিনি জনগণের সেবার জন্য নিজের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন। মানুষের সুখে দুঃখে তিনি এগিয়ে যান। তিনি একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সাধ্যমত মানুষকে সহযোগিতা করে থাকেন। তিনি একজন উদার মনের মানুষ হিসেবে জনগণের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। সামাজিক ও মানবিক কাজে তার ব্যক্তিগত ভূমিকা রয়েছে অসীম এবং এক নতুন সমাজ নির্মাণে তার মূলধারা সম্মান অব্যাহত রয়েছে। তার পরিশ্রম এই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে। তিনি বর্তমানে বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। যেখানে নারীরা ৩নং প্যানেলের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তিনি তার কর্মদক্ষতার মধ্যদিয়ে এলাকায় বাল্যবিবাহ বিষয়ে সচেতন করেন ২৫টি পরিবারকে, বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন ১৫টি এবং শতশত পরিবারের পারিবারিক বিরোধ নিরসন করেন। 

তিনি ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহযোগিতায় ৩০ জন মহিলাকে মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান, ২৫ জন বিধবা মহিলাকে বিধবা ভাতা এবং ১০ জন প্রতিবন্ধীকে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করে দেন। এছাড়াও নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনেক গরীব অসহায় পরিবারকে সহযোগিতা করেছেন ও করে যাচ্ছেন। অনেক পরিবারকে সুপেয় পানির কষ্ট লাঘবে তিনি টিউবওয়েলের ব্যবস্থাও করে দেন। ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৯৯৯ ও ১০৯ নম্বরে কল করে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধামূলক সেবা পেতে ২শতাধিক জনগণকে নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতা করেন। তিনি ৩২ জনকে বয়স্ক ভাতা প্রদান করেন ও সমাজের অবহেলিত ঝরে পড়া ৭০ থেকে ৮০জন শিক্ষার্থীকে স্কুলমুখী করেন। এলাকার অবকাঠামগত উন্নয়নে ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন তার সফল জীবনযাত্রায় অনেক সাফল্যসমূহ লুকিয়ে আছে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের শিক্ষা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক দলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করার ফলে তিনি বিএমচর ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন এবং বহদ্দারকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন। এসব পদবী ও মর্যাদা লাভ করার পেছনেও অপরাজিতার অবদান অন্যতম বলে স্বীকার করেন। 

তিনি একজন খুব ক্ষুদ্র পরিসর প্রশিক্ষিত নারী যা সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তিনি সকল সময়ের সামাজিক কর্মসূচি এবং মানবিক সেবা করার জন্য প্রবৃদ্ধি করেছেন বুলবুল জান্নাত জীবনের প্রতিটি অধ্যায় এবং উৎস হিসেবে দাখিল করা যায়। বুলবুল জান্নাত একজন সততা, কর্মঠ, এবং সবার জন্য সেবা করার মাধ্যমে নারী শক্তি আর তার শক্তি হিসেবে কাজ করছে তার স্বামী। এবং সমাজের উন্নতির দিকে এক নতুন উৎসাহী পথে চলছেন তার উদ্দীপনা একটি অপরাজিতা নারীর জীবন চরিত্র যা প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তার সাফল্য অন্তর্ভুক্ত আছে এক সৌন্দর্য এবং উন্নত সমাজ সৃষ্টির জন্য তার উদ্দীপনা স্বার্থের অগ্রায়ন করে। তিনি আগামীতেও এভাবেই জনগণের পাশে থাকবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বুলবুল জান্নাত বলেন, “নারীদের কাজকে পুরুষ স্বীকৃতি দিতে চায় না; পুরুষের কাজটাকে নিজেরা বড় করে দেখে” তাই দেখিয়ে দিতে চাই পুরুষের পাশাপাশি আমরাও পারি সমাজটাকে বদলে দিতে। 


চকরিয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রশিকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

চকরিয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রশিকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মানবিক উন্নয়নমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র চকরিয়া জোনের আয়োজনে চকরিয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান স্থানীয় আইসিডিডিআরবি মিলনায়তনে সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল চারটায় বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক রফিকুল কাশেম।

চকরিয়া জোনের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক অশোক কুমার সুরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও বাঁশখালী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক সজল কান্তি দেবনাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী সিরাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রশিকার উপ-প্রধান নির্বাহী কামরুল হাসান কামাল, কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার ও চকরিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম. আলী হোসেন।

সভায় অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে- দেশে বড় ধরনের দুর্যোগে প্রশিকার মানবিক কার্যক্রমে অকল্পনীয় ভূমিকা নিয়ে ভূয়সি প্রশংসা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশিকার প্রধান নির্বাহী সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রশিকা একটি মানবিক প্রতিষ্ঠান। সারা দেশে এর উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বিদ্যমান। তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্যের দাবির প্রেক্ষিতে চকরিয়ায় প্রশিকার মানবিক উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নিজস্ব জমিতে একটি স্থায়ীভাবে দাপ্তরিক ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রশিকা শিক্ষা প্রকল্পকে গুরুত্ব দিচ্ছে। মেধা নির্ভর জাতি গঠনে কৃতি শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে এগিয়ে আসছে প্রশিকা। অসহায় ও অসচ্ছল পরিবারের অর্থাভাবে পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দীক্ষায় অগ্রসর করে রাখতে অর্থ সহায়তা তথা শিক্ষা বৃত্তি চালু করেছে। যার সুযোগ সুবিধার সুফল বর্তমানে অসংখ্য শিক্ষার্থীরা ভোগ করছেন। তাই সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিরক্ষরমুক্ত শিক্ষা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে; তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও প্রশিকা কর্মকর্তাদের প্রতি এ আহবান জানান।

পরিবেশ আজ চরম বিপর্যয়ের মুখে উল্লেখ করে প্রশিকা প্রধান নির্বাহী সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রশিকা বৃক্ষরোপন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। যা সারা দেশে পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি চলবে। তিনি প্রশিকায় কাজ করতে আগ্রহীদের উদ্দেশ্য বলেন, যারা চাকরি করতে ইচ্ছুক তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে উপযুক্ত স্থানেই কর্মস্থানের সুযোগ দিতে বাধা নেই। এ ক্ষেত্রে প্রশিকার নিয়োগ বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

পরে অতিথিবৃন্দ চকরিয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৩টি পরিবারের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা ও মেধাবী ৫জন শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা বৃত্তি তুলে দেন।

অনুষ্ঠান শেষে শান্তির পায়রা কবুতর উড়িয়ে কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও, পেকুয়া, মহেশখালী ও চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রশিকার মানবিক উন্নয়ন এলাকা ঘোষণা ও নতুন শাখা অফিস উদ্বোধন করেন।
শেখ জামাল ক্লাব চকরিয়ার উদ্যোগে দুঃস্থ-গরীবদের মাঝে খাবার বিতরণ

শেখ জামাল ক্লাব চকরিয়ার উদ্যোগে দুঃস্থ-গরীবদের মাঝে খাবার বিতরণ

শাহজালাল শাহেদ (চকরিয়া টাইমস): 

চকরিয়ার সুপরিচিত ক্রীড়া সংগঠন শেখ জামাল ক্লাব চকরিয়ার আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক দোয়া মাহফিল ও দুঃস্থ-গরীব মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবনের সামনে প্রধান অতিথি হিসেবে অসহায়দের মাঝে এসব খাবার তুলে দেন ক্লাবের চেয়ারম্যান কক্সবাজার জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি ও চকরিয়া পরিষদের উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী। 

ক্লাবের ম্যানেজার মো. শওকত হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ক্লাবের কোচ মো. নুরুল আবছার, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদ চকরিয়ার সভাপতি পরিমল বড়ুয়া ও বিশিষ্ট ক্রীড়ানুরাগি আবছার উদ্দিন মাহমুদ। 

এরআগে বঙ্গবন্ধুসহ নিহত সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় স্থানীয় আলেম-ওলামাদের নিয়ে খতমে কুরআন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

চকরিয়ায় ২৭৫০জন বন্যা দুর্গতদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ

চকরিয়ায় ২৭৫০জন বন্যা দুর্গতদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ

শাহজালাল শাহেদ (চকরিয়া টাইমস) : 

চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৭৫০জন দুর্গত মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ত্রাণ সামগ্রি তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের  ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। 

শুক্রবার (১১ আগস্ট) সকালে কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী সাহাবউদ্দিনের বাসভবন সংলগ্ন মাঠে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এসব ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করেন তিনি। 

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরানের সভাপতিত্বে ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেপি দেওয়ানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম ও মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক।  

এসময় চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, চকরিয়া থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ, মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, চকরিয়া উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি আজিমুল হক আজিম, সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু ও সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোহাম্মদ আলমগীরসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকতাবৃন্দ, উপজেলার জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম এমপিকে সাথে নিয়ে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যা দুর্গত এলাকা কাকারা ইউনিয়নে ১১০০ জনকে, সাহারবিল ইউনিয়নে ৭৭৫ জন এবং কোনাখালী ইউনিয়নে ৮৭৫ জনকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ করা হয়। দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার জন্য অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেন সূত্রটি।

চকরিয়ায় পানিবন্দীদের মাঝে জামায়াতের ত্রাণ বিতরণ

চকরিয়ায় পানিবন্দীদের মাঝে জামায়াতের ত্রাণ বিতরণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : 

চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া, শাহারবিল ও হারবাং ইউনিয়নে পানিবন্দীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (১০আগস্ট) সরেজমিন পরিদর্শন করে জামায়াত নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসী মানুষের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রাণ সামগ্রি তুলে দেন। বিকাল সাড়ে তিনটায় মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা জামায়াতের ব্যানারে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও কক্সবাজার জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী। 

এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক। মাতামুহুরী উপজেলা আমীর মাওলানা ফরিদুল আলমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হোসনে মোবারকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলাম, জেলা যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সেক্রেটারি মুছা ইবনে হোছাইন বিপ্লব।  

এদিকে একইদিন হারবাং ইউনিয়নে চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের ব্যানারে ভারপ্রাপ্ত আমীর মাস্টার মুহাম্মদ মুসার সভাপতিত্বে ও জামায়াত নেতা মাওলানা শেখ আহমদের সঞ্চালনায় এবং শাহারবিল ইউনিয়নে জামায়াতের ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আশরাফুল মোস্তফার সভাপতিত্বে একই অতিথিবৃন্দ উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। 

ত্রাণ বিতরণকালে অতিথিবৃন্দ বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের যে কোন দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে অগ্রণি ভূমিকা পালন করে আসছে। যেখানে মানবিক বিপর্যয় ঘটছে সেখানে মানবতার কল্যাণে জামায়াত নেতৃবৃন্দ ছুটে যাচ্ছেন। তাদের সুখ-দুঃখের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। সাধ্যমতো মানবিক সহায়তা দিয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এ সংগঠন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। 

বক্তারা বলেন, বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান আজ কারাবন্দী। মানবতাবাদী জাতীয় এ নেতা আজ কারাগারের বাহিরে থাকলে হয়তো চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সমবেদনা জানাতে ছুটে আসতেন। চকরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় সংখ্যালঘু একই পরিবারের ৫ সদস্যের মাঝে আমীরে জামায়াতের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অর্থ সহযোগিতা প্রদান করা হয়ছিল। এভাবেই জামায়াতে ইসলামী মানবতার কল্যাণে সব সময় কাজ করে আসছে এবং করে যাবে ইনশা’আল্লাহ।

বক্তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার চাইলে অনেক কিছু করতে পারেন। তাদের পুনর্বাসনে সরকারকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি বানভাসী মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে বিত্তশালীদের প্রতি নেতৃবৃন্দ আহবান জানান।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমদ বাবর, চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল মামুর, চকরিয়া উপজেলা শ্রমিক কল্যাণের সভাপতি শরিফুল আমিন, জামায়াত নেতা মু. মাহফুজুল করিম, মো. শোয়াইব, ওমর আলী, শ্রমিক নেতা আবদুস সালাম, ওমর আজম, জামায়াত নেতা জুনাইদ সিকদার, আনসারুল করিম, মো. হামিদুল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা শাহেদ উদ্দিন, হাফেজ মো. মাসুম, হাফেজ মো. মনিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

চকরিয়ায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের জামায়াতের মানবিক অর্থ সহায়তা

চকরিয়ায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের জামায়াতের মানবিক অর্থ সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চকরিয়া পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে মানবিক নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী চকরিয়া পৌরসভা শাখা। 

শুক্রবার (২জুন) সন্ধ্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়ে নগদ এ অর্থ সহায়তা তুলে দেন চকরিয়া পৌরসভা জামায়াতের আমীর মো. আরিফুল কবির। এসময় স্থানীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩টি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে অন্তত ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

বৈদ্যুতিক শকসার্কিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত বলে ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ। স্থানীয়রা জানায়, তালাবদ্ধ বাড়ির পরিবারের কেউ না থাকায় যৌথ পরিবারের পাশাপাশি ৩টি বাড়িই আগুনের লেলিহান শিখায় ভষ্মিভুত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দমকল বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ভুক্তভোগি পরিবার নিশ্চিত করেন। 


চকরিয়ায় এতিমখানার শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঋণ বিতরণ

চকরিয়ায় এতিমখানার শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঋণ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

চকরিয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে ক্যাপিটেশন গ্রান্টপ্রাপ্ত বেসরকারি এতিমখানার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা ও হতদরিদ্র পরিবারদের মাঝে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম বৃহস্পতিবার (৬এপ্রিল) উপজেলা পরিষদের মোহনা মিলনায়তনে সম্পন্ন হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেপি দেওয়ানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সমাজসেবা কার্যালয়ের বিভাগীয় পরিচালক (উপ-সচিব) কাজী নাজিমুল ইসলাম। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক শাহী নেওয়াজ, কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক হাসান মাসুদ, জেলা কর্মকর্তা শফি উদ্দিন ও চকরিয়া পূর্বভেওলা সিকদারপাড়া ছলিমুল উলুম এতিমখানা ও হেফেজখানার প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ মোহাম্মদ আমান উল্লাহ। 

এসময় দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ ও ঋণ গ্রাহক হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এতিমখানার মেধাবী ছাত্রদের মাঝে পুরস্কার এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তালিকাভুক্ত বিভিন্ন ইউনিয়নের ৯১টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ৩৬লাখ ১০হাজার টাকার সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ। 


প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত চকরিয়া উপজেলায় ঠাঁই হলো ৮৭৪টি পরিবারের

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত চকরিয়া উপজেলায় ঠাঁই হলো ৮৭৪টি পরিবারের

শাহজালাল শাহেদ (চকরিয়া টাইমস) : 

দেশের ৭০টি উপজেলার সাথে চকরিয়া উপজেলাকেও আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত এই উপজেলায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে নতুন ১৯২টিসহ ৮৭৪টি পরিবারের। এরই মধ্যদিয়ে ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলায় উন্নীত হয়েছে চকরিয়া উপজেলা। 

গতকাল বুধবার (২২ মার্চ) দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চকরিয়া উপজেলার ১৯২ ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে দুইশতক জমিসহ নতুন বাড়ির দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহ ও ভূমিহীন উপজেলা ঘোষণা দেন চকরিয়াকে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেপি দেওয়ানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাহাতুজ্জামান দিপুর সঞ্চালনায় চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সুগন্ধা মিলনায়তনে গণভবন থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের সদস্যদের হাতে জমির দলিলসহ বাড়ির চাবি তুলে দেন চকরিয়ার অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) মো. তফিকুল আলম, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মকছুদুল হক ছুট্টু, নারী ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন হক জেসি চৌধুরী ও চকরিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী। 

এসময় চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু মুছা ও চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুসহ চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেপি দেওয়ান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে চকরিয়া উপজেলার ভূমিহীন ৮৭৪ পরিবারের জন্য জমিসহ একটি করে নতুন বাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই আলোকে উপজেলা প্রশাসনের যাচাই-বাছাই শেষে ২০১৭ সালের তালিকা অনুযায়ী মোট ৮৭৪টি পরিবারকে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে খাসজমিতে ১৮২টি নতুন বাড়ি নির্মাণপুর্বক বরাদ্দ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে আরো ৫০০ ভূমিহীন পরিবারের মাঝে জমির দলিলসহ নতুন বাড়ি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ বুধবার (২২ মার্চ) চতুর্থ পর্যায়ে নির্মিত ১৯২টি নতুন বাড়ি ও জমির দলিলপত্র গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপকারভোগী পরিবারের মাঝে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করার মাধ্যমে চকরিয়া উপজেলাকে শতভাগ গৃহহীন ও ভূমিহীনমুক্ত উপজেলায় উন্নীত করা হয়েছে। এতে করে চারটি ধাপে চকরিয়ায় সর্বমোট ৮৭৪টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে।