Showing posts with label সারাদেশ. Show all posts
Showing posts with label সারাদেশ. Show all posts
ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চকরিয়া টাইমস:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করা, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধনে সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
মন্ত্রী আজ মঙ্গলবার (২জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রামিসা হত্যা মামলার বিচার কাজ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে চলমান রয়েছে। আজ আদালতে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ইতিমধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আজ পোস্টমর্টেম ও ফরেনসিক রিপোর্টের ওপর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিচারাধীন বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করা সমীচীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের যথাসময়ে আদালতে উপস্থাপন নিশ্চিত করাসহ প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে যাবতীয় আইনি সহায়তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রদান করছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে যেন বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, সরকার সেই ব্যবস্থা করছে। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিকে দোষী বা নির্দোষ সাব্যস্ত করার আইনি প্রক্রিয়া, যুক্তিতর্ক এবং রায়ের দিন ধার্য করার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আদালতের এখতিয়ার।"
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক সফলতার দৃষ্টান্ত টেনে মন্ত্রী জানান, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় এক কিশোরীকে গণধর্ষণ ও হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ নিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে ইতিমধ্যে ৪ জন প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। অপরাধ দমনে এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিম ইতিমধ্যে সরজমিনে তদন্ত করেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে এয়ারকন্ডিশন বন্ধ থাকা এবং সাফোকেশন বা অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে মামলা দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
শিশু মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত না করার বিষয়ে মন্ত্রী অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া মামলা হলে বিচার কার্যের এক পর্যায়ে আসামি পক্ষ এর আইনি সুবিধা (বেনিফিট) পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রয়োজনে আইনি প্রক্রিয়া ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে লাশ উত্তোলন করেও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব।
একই হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে "ন্যক্কারজনক" আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ দোষীদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার ও কঠোর তদন্ত নিশ্চিত করবে।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনকালে দেশজুড়ে নিরাপদ পরিবেশ এবং যানজট নিরসনে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) ও স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা প্রযুক্তি ট্রায়াল বেসিসে সফলভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর ফলে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনি ব্যবস্থা ও মামলা রুজু হচ্ছে। তিনি বলেন, গভীর রাতেও চালকেরা ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলছেন, যা সুশাসনের প্রতীক। পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে এই ট্রাফিক অটোমেশনকে আরও পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১-২ মাসের মধ্যে ঢাকা সিটিতে এর বৈপ্লবিক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে। ঢাকা সিটিতে সফলতার পর এই 'এআই ট্রাফিক সিস্টেম' দেশের অন্যান্য বড় বড় মেগাসিটি ও মেট্রো এলাকায় সম্প্রসারণ করা হবে।
রাজধানীতে যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত রিকশা ও টমটমের চলাচল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সাথে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মানবিক ও কর্মসংস্থানের দিক বিবেচনা করে রাতারাতি তাদেরকে বেকার না বানিয়ে মেট্রো এলাকার বাইরে কীভাবে তাদের পুনর্বাসন বা বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
আসন্ন বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের নিয়মিত বার্ষিক বৈঠক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। এই ডায়ালগে মাদক পাচার রোধ ও সীমান্ত নিরাপত্তা সহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় উত্থাপিত হবে। সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "অন্য দেশের বাহিনী যদি আমাদের সীমানায় বা জিরো লাইনে এসে হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবেই তা সীমান্ত হত্যা। কিন্তু যদি উভয় দেশের সীমান্তের অভ্যন্তরে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ বা চোরাচালানজনিত অপরাধের কারণে কোনো ঘটনা ঘটে, তবে তা সংশ্লিষ্ট দেশের অভ্যন্তরীণ আইনে নিয়ন্ত্রিত হয়।"
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পুশ-ইনের আশঙ্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার যেকোনো ধরণের অবৈধ 'পুশ-ইন' বা 'পুশ-ব্যাক'-এর নীতিগত বিরোধী। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোনো নাগরিকের ন্যাশনাল আইডি ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত কোনো তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়, তবে তা প্রচলিত কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে। বর্তমানে এ জাতীয় কোনো বিষয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পেন্ডিং নেই।
ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক এখতিয়ার, এ বিষয়ে অন্য কারো মন্তব্য করার সুযোগ নেই।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য সমূলে নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য সমূলে নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

চকরিয়া টাইমস:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে কার্যকরভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক না কেন, তা সম্পূর্ণ নির্মূল করা হবে। রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস যে সমস্ত সন্ত্রাসী দেখিয়েছে, তাদের যথাযথভাবে দমন করা হবে।
মন্ত্রী আজ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সলিমপুর, জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরসহ পার্শ্ববর্তী সমগ্র এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সেজন্য এই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পরিকল্পিত সরকারি স্থাপনা ও একাডেমি নির্মাণের লক্ষ্যে আজ সব বিভাগীয় প্রধানদের সাথে ম্যাপ পর্যালোচনা করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের বর্তমান কারাগারটি বায়েজিদ লিঙ্ক রোডের পাশের ওই এলাকায় স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ শিগগিরই স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। তিনি আরো বলেন, কারা অধিদপ্তর প্রথমে কারাগারের নির্ধারিত স্থানটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পরবর্তী উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করবে, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি। অন্যান্য সরকারি দপ্তরের জন্য কোন স্থানে কী স্থাপনা করা হবে, তাও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা ও যৌথ অভিযান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে কেবল প্রচলিত ধারার পুলিশিং নয়, বরং র‍্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ রাষ্ট্রের সকল বাহিনী হেলিকপ্টার সাপোর্টের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কল্যাণে ও জননিরাপত্তা বিধানে সকল বাহিনী একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গল সলিমপুরের মতো রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও বোয়ালখালীসহ সব অঞ্চলের সন্ত্রাসীদের তালিকা ও আস্তানা চিহ্নিত করে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্মূল করা হবে। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর হামলাকারী ও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের সর্বশেষ আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
মন্ত্রী এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন, দেশের কল্যাণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
উচ্চপর্যায়ের এই বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলার সংসদ সদস্যবৃন্দ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোঃ মোতাহার হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম-সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
 দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ কোনো আপস নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ কোনো আপস নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

চকরিয়া টাইমস (১১ মে, ২০২৬ | ঢাকা।):

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বজায় রাখা হবে এবং বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ও ডিসিপ্লিন রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।
মন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষ্যে "ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান" অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তৃতা করেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন।
মন্ত্রী বলেন, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে অপরাধের ধরন ও মাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। সেজন্য সাইবার ক্রাইম, সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব এবং অপপ্রচার প্রতিরোধে একটি বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, পুলিশের পেশাদারিত্ব বাড়াতে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে দুটি নতুন পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হবে এলিট ফোর্সের জন্য এবং অন্যটি সাধারণ ফোর্সের জন্য। এলিট ফোর্সের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আলাদা লেজিসলেশন (আইন) প্রণয়ন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। তাছাড়া জমি প্রাপ্তি সাপেক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ 'পুলিশ স্পোর্টস কমপ্লেক্স' নির্মাণ করা হবে।
অপারেশনাল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম বল প্রয়োগ নীতি অনুসরণে পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অপরাধ দমনে কৌশলী হতে হবে, তবে কোনো অবস্থাতেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যাবে না।"
মন্ত্রী পুলিশের সেবার মানোন্নয়নে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও অনলাইন জিডিসহ সব ধরনের সেবা দ্রুততম সময়ে প্রদানের নির্দেশ দেন। তিনি ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়িয়ে পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "৩১ দফার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। 'পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ'—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে প্রতিটি থানাকে সেবার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। আধুনিক পুলিশিং ডকট্রিন অনুযায়ী প্রিভেন্টিভ পুলিশিং বা অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে।"
সভায় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণের আলোকে পুলিশের আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়।
সভায় অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অ্যাডিশনাল ডিআইজি, পুলিশ সুপার সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব‍্যাংকে এমডি নিয়োগ সাক্ষাৎকার গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রকাশিত রিপোর্টের প্রতিবাদ

সম্মিলিত ইসলামী ব‍্যাংকে এমডি নিয়োগ সাক্ষাৎকার গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রকাশিত রিপোর্টের প্রতিবাদ

চকরিয়া টাইমস:


গত ৬ মে ‘২০২৬ তারিখে কয়েকটি পত্রিকায় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’তে ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাক্ষাৎকার সংক্রান্ত প্রকাশিত একটি রিপোর্ট আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে ।স্বনামধন্য জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’ ও আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট আমার কাছে একপেশে, পক্ষপাতদুষ্ট, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হয়েছে ।
আমাকে জড়িয়ে যেভাবে রিপোর্ট ছাপানো হয়েছে তা মোটেও তথ্যনির্ভর নয় ! বরং মনগড়া অসত্য তথ্য উপাত্ত দিয়ে আমার কষ্টার্জিত সুনাম বিনষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে । সঙ্গত কারণে জন বিভ্রান্তি দূরীকরণে দু’একটি বিষয়ে আমার অবস্থান জ্ঞাত করা প্রয়োজন হয়েছে পড়েছে ।
প্রথমতঃ প্রস্তাবিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-তে এমডি নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে অন্যদের মতো আমিও আবেদন করি । কতৃপক্ষ ৬ মে ‘ ২০২৬ তারিখ ছয়জনের সাক্ষাৎকার নেয় বাংলাদেশ ব্যাংকে । কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে আমাকে টার্গেট করে অসত্য তথ্য দিয়ে যেভাবে রিপোর্ট ছাপানো হয়েছে তা ব্যক্তির চরিত্র হননের নামান্তর ।
আমি এসআইবি পিএলসি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করি ২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত । সত্য উচ্চারণ করতে আমার দ্বিধা নেই যে, তৎসময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কতৃক প্রদত্ত বোর্ড চেয়ারম্যান মহোদয় আমার সময়কার কাজের প্রশংসা করে , তাঁদের কথিত নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের স্বার্থে পদত্যাগের কথা জানালে আমি পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর’ ২০২৪ তারিখ পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিই। যদিও ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদত্যাগ গ্রহণ করা নাকরার এখতিয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের ! বোর্ডের হস্তক্ষেপ এখানে কাম্য নয় ।পরবর্তিতে আমি তৎকালীন গভর্নর জনাব আহসান এইচ মনসুর এর সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে চেয়ারম্যানের অনধিকার চর্চা ও জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার বিষয়টি লিখিত নালিশ করি ।
এদিকে ব্যাংকের বোর্ডের ৫ সেপ্টেম্বর ‘২০২৪ তারিখ অনুষ্ঠিত সভায় পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার সুপারিশ করে ।কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণে প্রায় বিশ পঁচিশ দিন সময়ক্ষেপন করে । বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য পদত্যাগ পত্রটি পাবার কয়েকদিনের মধ্যে অনুমোদন করে ২১ অক্টোবর’২০২৪ তারিখ ব্যাংকে জানিয়ে দেয় । কিন্তু ব্যাংক কতৃপক্ষ পদত্যাগ অনুমোদনের বিষয় আমাকে অবহিত করে ৪ জুন ‘২০২৫ তারিখ এক পত্রের মাধ্যমে অর্থাৎ পদত্যাগের প্রায় দশ মাস পরে । এই অন্যায় অপেশাদারিত্ব আচরণের কারণে ব্যক্তিগতভাবে আমি, সামগ্রিকভাবে ব্যাংক অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ।একজন সুনাগরিক হিসেবে ৩৪ বছরের ব্যংকিং অভিজ্ঞতা নিয়ে এমডি পদে আবেদন করতে বাধা কোথায় ? স্বার্থান্বেষী মহলের এতে গাত্রদাহ হবার কারণ কি ? আমিতো নিয়ম ও আইনানুগভাবে চাকুরীর আবেদন করতে পারি ।
দ্বিতীয়তঃ ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ওয়েষ্টিনে অনুষ্ঠিত বিশেষ বিশেষ মিটিং এর কথা বলা হচ্ছে তার সাথে আমার কোনরূপ সংশ্লিষ্টতা নেই ।তখন আমি ইসলামী ব্যাংকে চাকুরীরত । আমি এসআইবিএ পেএলসি -র এমডি-র দায়িত্ব গ্রহণ করি ২০২১ সালের ডিসেম্বরের প্রায় সমাপ্তিতে । সুতরাং ২০১৭ সালে বোর্ড বা মালিকানা পরিবর্তনের সময় আমি এমডি থাকার যে দাবী করা হয়েছে তা একেবারেই অসত্য ! আমার ক্ষতিসাধনের জন্য এমন জঘন্য মিথ্যচার করা হয়েছে । ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে এই রিপোর্ট বানানো হয়েছে ।
তৃতীয়ত : ম্যানেজিং ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালনকালে প্রায় সকল খাতে ব্যাংকের অবস্থা সুদৃঢ় ছিল । রেমিটেন্স আহরণে ব্যাংকে অবস্থান ২য় তে উন্নীত হয়েছিল । শ্রেণীকৃত বিনিয়োগ ৪.৭% এ নেমে এসেছিল । প্রায় বিশটি নতুন ডেপুজিট ও বিনিয়োগ প্রোডাক্ট চালু করা হয়েছিল যা বাজারে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম । আমি ব্যাংক ত্যাগ করার পর সকল পর্যায়ে পজিশন অবনতি হয়েছে ।
আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই , চাকুরীর চৌত্রিশ বছরের জীবনে নীতি নৈতিকতার সাথে আপোষ করিনি । যতটুকু সম্ভব নিয়মনীতি মেনে দায়িত্ব পালন করেছি । আমার জীবনে কোন এক্সিলারেট প্রমোশনের ইতিহাস নেই ! প্রতিটি টেবিলে টেবিলে কাজ করে ক্যারিয়ার গড়তে হয়েছে আমাকে।
এমতাবস্থায় ,আমার বক্তব্য পত্রিকার প্রথম পৃষ্টায় জনগণের দৃষ্টি পাবার মতো জায়গায় ছাপানোর অনুরোধ করছি যাতে জনমনে বিভ্রান্তি দূর হয় এবং একজন ব্যক্তি হিসেবে আমার অধিকার কিছুটা হলেও ফিরে পাই । সাংবাদিকরা জাতির দর্পণ । সত্য প্রতিষ্ঠায় আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
জাফর আলম
সাবেক ম্যানেজিং ডিরেক্টর
এসআইবি পিএলসি
তাং - ১০ মে ‘ ২০২৬
যে কারণে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে যাচ্ছেন না আফরোজা আব্বাস!

যে কারণে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে যাচ্ছেন না আফরোজা আব্বাস!

চকরিয়া টাইমস :

জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন। তিনি আফরোজা আব্বাস নাম সম্বলিত তার ফেসবুক পেইজ থেকে একটি এডমিন পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সেখানে স্বামী মির্জা আব্বাস বিদেশে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে কেন, কি কারণে দেশের বাইরে বিদেশে অবস্থান কথাটি স্পষ্ট করা হয়নি। ওই পোস্টে বলা হয়; আফরোজা আব্বাস সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচন করবেন না এবং এই মুহূর্তে তার স্বামী কে বিদেশে রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নই আসে না।

নিম্নে ফেসবুকের এডমিন পোস্ট হুবুহু তুলে ধরা হয়েছে:

“দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আফরোজা আব্বাস এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি অনেক আগেই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন—সংরক্ষিত আসন থেকে তিনি নির্বাচন করবেন না।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে তাকে আবারও চিন্তা করতে বলা হলেও, তিনি তার আগের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচন করবেন না এবং এই মুহূর্তে তার স্বামী কে বিদেশে রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নই আসে না।
অতএব, “আফরোজা আব্বাস বাদ পড়লেন” এই ধরনের শিরোনাম সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং গ্রহণযোগ্য নয়।
আফরোজা আব্বাস বাদ পড়েননি—তিনি নিজেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তিকরণ সংসদীয় গণতন্ত্রের অনন্য নজির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তিকরণ সংসদীয় গণতন্ত্রের অনন্য নজির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা | ১২ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
মন্ত্রী আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে "জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ" বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মূল বক্তব্য রাখেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান। আরোও উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ববর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশগুলো নিষ্পত্তির আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও শবে বরাতের দীর্ঘ ছুটির কারণে কার্যদিবস কম থাকলেও সংসদ সচিবালয়, আইন মন্ত্রণালয়, বিজি প্রেস ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিনরাত পরিশ্রমে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সময়ের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিধি মোতাবেক (Rules of Procedure) জাতীয় সংসদের স্পিকারের বিশেষ এখতিয়ারে বিলগুলো উত্থাপন ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, স্থায়ী কমিটিগুলো এখনো গঠিত না হওয়ায় একটি 'বিশেষ সংসদীয় কমিটি'র মাধ্যমে এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হয়েছে।কমিটির সুপারিশ ও পাসের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, ৯৮টি অধ্যাদেশ অবিকল (As it is) অবস্থায় সর্বসম্মতিক্রমে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংশোধিত আকারে অথবা রহিত ও হেফাজতকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিল সংখ্যা নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার প্রশ্ন ও ভুল বোঝাবুঝির জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইনমন্ত্রী ফ্লোরে জবাব দিয়েছেন যে ৯১টার মধ্যেই কিন্তু বাকি ১৭টা অন্তর্ভুক্ত। কারণ কোনো কোনো অধ্যাদেশ জারি হওয়ার ১৫-২০ দিন, এক মাস, দুই মাস পরে দ্বিতীয় সংশোধনী আনা হয়েছে, কোথাও কোথাও তৃতীয় সংশোধনীও আনা হয়েছে। মূলত অধ্যাদেশ একটাই। যখন বিল আকারে উত্থাপন করা হয় জাতীয় সংসদে, সব অধ্যাদেশগুলোকে এক করে একটা বিল আকারেই উত্থাপন করা হয়েছে। এটা হয়তো বিরোধী দলীয় নেতা খেয়াল করেননি।
'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর' বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উদার। কিউরেটর নিয়োগ ও পদত্যাগ সংক্রান্ত বিধিগুলো আরো স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী অধিবেশনে এটি আরো আলোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে পুনরায় উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে।
গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও আইসিটি আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "আমি নিজে গুমের শিকার। আমরা চাই না তাড়াহুড়ো করে কোনো ত্রুটিপূর্ণ আইন পাস হোক যাতে অপরাধীরা আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যায়। কিছু অসঙ্গতি দূর করে সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এই আইনগুলোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা হবে যাতে ভুক্তভোগীদের জন্য সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী বিরোধী দল বিধি মোতাবেক ওয়াকআউট করতেই পারে। তবে সংসদের বাইরে গিয়ে অসত্য তথ্য বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হলে তা জাতির সামনে পরিষ্কার করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, স্পিকার বিরোধী দলীয় সদস্যদের নজিরবিহীনভাবে দীর্ঘ সময় কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন এবং তাদের 'নোট অব ডিসেন্ট' বা আপত্তিগুলোও রিপোর্টে হুবহু সংরক্ষণ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ওয়াকআউট করা যৌক্তিক হয়নি বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
বিক্ষোভের ডাক দিয়ে কারণ জানালেন জামায়াত জোট

বিক্ষোভের ডাক দিয়ে কারণ জানালেন জামায়াত জোট

চকরিয়া টাইমস: 

আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) বেলা ১১টায় গুলশানে ১১ দলীয় ঐক্যের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ও মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির সদস্য সচিব জনাব আখতার হোসেন এমপি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আবদুল মাজেদ আতহারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা'র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান এড. আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির।
বৈঠক শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকার গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে, যা জনগণকে অপমান করা ও রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন মহান সংসদের এখতিয়ার ও একটি নিয়মিত কাজ। তবে সংবিধান সংশোধনী বিল এনে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর কোনো অংশ পরিবর্তন করা যায় না। বিশেষ প্রয়োজনে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের বৈধ পথ হলো- জনগণের সরাসরি সম্মতি লাভের জন্য গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে সংবিধানের সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের পথ তৈরি করা হয়েছিল এবং বর্তমান সরকারও একই পথে এগোচ্ছে। তাই সংবিধান সংশোধন নয়, বরং গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাস্তবে জ্বালানি সংকট থাকলেও সরকার তা অস্বীকার করছে। স্কুলে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্তকে তিনি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে উল্লেখ করেন।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং অবিলন্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, দাবি আদায় না হলে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এ লক্ষ্যে আগামী ৪ এপ্রিল বিকেল ৫টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং জনমত গঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
এছাড়া আগামী ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে আন্দোলনের রূপরেখা ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।
এবার স্বাধীনতা দিবসে আলোকসজ্জা করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এবার স্বাধীনতা দিবসে আলোকসজ্জা করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চকরিয়া টাইমস (০৮ মার্চ ২০২৬, রবিবার | ঢাকা)

জ্বালানি সংকট মাথায় রেখে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্দেশ্যে এবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, আগামী ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন এবং পবিত্র ঈদ উল ফিতর ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, প্রথাগতভাবে স্বাধীনতা দিবসে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবার তা পরিহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট যাতে না হয় এবং আমরা যাতে সাশ্রয়ী হতে পারি, সেজন্য দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পমাল্য অর্পণসহ সব রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, আসন্ন ঈদ উল ফিতরে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। তিনি আরো বলেন, সড়ক পরিবহনে যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় এবং জনজীবনে স্বস্তি বজায় থাকে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো অসন্তোষ না হয়, সেজন্য বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদের প্রস্তুতি সমন্বয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবেন, যাতে কোনো বিচ্যুতি না ঘটে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও মব জাস্টিস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মবের বিষয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। বাংলাদেশ থেকে মব কালচার বিলুপ্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন, নরসিংদীতে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জায়গার ঘটনাগুলোও পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
যে কারণে এনসিপির চেয়ার‌ম্যান হলেন সারজিস আলম

যে কারণে এনসিপির চেয়ার‌ম্যান হলেন সারজিস আলম

চকরিয়া টাইমস:

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নবগঠিত এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

গতকাল সোমবার রাতে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

নবগঠিত কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা।

এছাড়া কমিটিতে সব বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা এক্স-অফিসিও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ডে যারা প্রার্থী হতে চান, প্রস্তুতি নিন। আমরা আসছি আপনার খোঁজে...।’
মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ

মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ

চকরিয়া টাইমস: 

চকরিয়া উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। 

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় চকরিয়া উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ইউএনও মো. শাহীন দেলোয়ারের হাতে তিনি ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী হিসেবে এ মনোনয়নপত্র জমা দেন। 

এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খোকন মিয়া, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইবরাহিম, চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফখরুদ্দিন ফরায়েজীসহ চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।    


জামায়াতের মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানালো প্রস্তুতি কমিটি

জামায়াতের মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানালো প্রস্তুতি কমিটি

চকরিয়া টাইমস: 

আগামী ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি উপলক্ষে অনুষ্ঠিতব্য মহাসমাবেশ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রি. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্যবৃন্দ- মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা আবদুল হালিম, এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জনাব আবদুর রব, জনাব মোবারক হোসাইন, জনাব আবদুস সাত্তার, জনাব আবদুর রহমান মুসা, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এডভোকেট আতিকুর রহমান, মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত, জনাব নাজিম উদ্দিন মোল্লা, ড. মনোয়ার হোসাইন, মুহাম্মাদ শরিফুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. সাজেদ আবদুল খালেক, ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব এবং ডা. মাহরুফ শাহরিয়ার।

সভায় মহাসমাবেশ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সময় মহাসমাবেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একাধিক উপকমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।

পরিশেষে মহাসমাবেশ সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার সাহায্য কামনা করা হয়।

হাদির ইনসাফপূর্ণ দেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব আমাদের সকলের: ওমর বিন হাদি

হাদির ইনসাফপূর্ণ দেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব আমাদের সকলের: ওমর বিন হাদি

চকরিয়া টাইমস:

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদি বলেছেন, “আমার ছোট ভাই শরীফ ওসমান বিন হাদি সবসময় বলত ‘আমাকে আল্লাহ রক্ষা করবেন। আমার নিরাপত্তার দায়িত্ব আল্লাহর। আল্লাহ আমাদের পরিবার-পরিজন ও দেশের ১৮ কোটি মানুষকে নিরাপত্তা দিবেন। আমরা দেশকে আধিপত্যবাদীদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য রাজপথে নেমেছিলাম। আমরা শোষণ-জুলুমের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ইনসাফপূর্ণ দেশ গড়ার জন্য রাজপথে নেমেছি’।”

ওমর বিন হাদি আরও বলেন, “আমার ভাই ওসমান হাদি শাহাদাত বরণ করেছে। ওসমান যে স্বপ্ন দেখত সেই স্বপ্ন পূরণ করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। তার অসমাপ্ত বিপ্লব সমাপ্ত করতে এগিয়ে আসার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের পরিবার-পরিজন সকলের কল্যাণের জন্য দেশবাসীর দোয়া কামনা করছি।”

তিনি আজ ২১ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাইয়ের অকুতোভয় বিপ্লবী যোদ্ধা শরীফ ওসমান বিন হাদির শাহাদাৎ উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর জনাব মোঃ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চাকসুর সাবেক ভিপি এড. জসিম উদ্দিন সরকার এবং শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদী।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মুসা, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির ও এড. ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসাইন, ড. আবদুল মান্নান প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাইয়ের অকুতোভয় বিপ্লবী যোদ্ধা শরীফ ওসমান বিন হাদী শির উঁচু করে শহীদ হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তিনি একজন অত্যন্ত সৌভাগ্যবান শহীদ। তার শাহাদাতের পর দেশবাসী তার অনেক বক্তব্য টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে শোনার সুযোগ পেয়েছেন। তার বক্তব্যে আমরা দেখতে পাই, তিনি বারবার শহীদ হওয়ার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছিলেন। আল্লাহ তার শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করেছেন। আজ তার দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন স্বার্থক হয়েছে বলে আমরা মনে করি।”

তিনি বলেন, “শহীদ ওসমান হাদির পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন, সৎ জীবন দেশবাসীকে মুগ্ধ করেছে। তার শাহাদাতের পরে মানুষের মধ্যে যে জোয়ার, জজবা ও আকাক্সক্ষা সৃষ্টি হয়েছে তা এক বিরল ঘটনা। গতকাল তার নামাজে জানাযায় সরকার প্রধান, উপদেষ্টাবৃন্দ এবং দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ যেভাবে অংশগ্রহণ করেছে, তা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। আল্লাহ তার আকাক্সক্ষা পূরণ করে তাকে দুনিয়ায় অতি উঁচু মর্যাদা দিয়েছেন এবং আমরা আশাকরি আখিরাতেও আল্লাহ তাকে অতি উঁচু মর্যাদা দান করবেন। তাকে হারিয়ে তার পরিবার-পরিজন শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। আল্লাহ তাদের এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান বিন হাদিকে রাজকীয় মর্যাদা দিয়েছেন। আল্লাহ তার পরিবার-পরিজনকেও দুনিয়ায় বিরাট মর্যাদা দিয়েছেন এবং আমরা আশাকরি আখিরাতেও আল্লাহ তায়ালা বিরাট মর্যাদা দিবেন।”

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস শহীদ ওসমান হাদির জানাযায় অংশগ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য দেন। কিন্তু ওসমান বিন হাদীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের ব্যাপারে কোনো কথাই বলেননি। ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের ব্যাপারে অবশ্যই বক্তব্য দেয়া উচিত ছিল। আমরা আশাকরি, তিনি এ ব্যাপারে জাতির সামনে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করবেন। দেশবাসীর প্রশ্ন ওসমান বিন হাদীর খুনিরা হামলার ছয় ঘণ্টা পর কীভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারল? কেন সরকার তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারল না? সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা কী করেছে? গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের সহযোগিতাকারী কেউ লুকিয়ে আছে কিনা তা অবশ্যই তদন্ত করে দেখা উচিত। শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার জন্য তিনি সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।”

ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে হত্যাকারীদের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করার জন্য সরকারকে যে আল্টিমেটাম দিয়েছে তার সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে তিনি বলেন, “অবিলম্বে ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের ব্যাপারে সরকারের সুস্পষ্ট বক্তব্য দাবি করছি। হাদির জানাযায় অংশগ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা যে ওয়াদা করেছেন তা অবিলম্বে পূরণ করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ওসমান হাদি আধিপত্যবাদ মুক্ত স্বাধীন-সার্বভৌম, ইনসাফপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব এখন আমাদের সকলের। এই দায়িত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে পালনে এগিয়ে আসার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।”

মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, “আল্লাহ তায়ালা শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির আশা পূরণ করেছেন। শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে মানুষের সুখ-শান্তিতে বসবাসের উপযোগী একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তার স্বপ্ন- আধিপত্যবাদ মুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলেই তার স্বপ্ন স্বার্থক হবে। শরীফ ওসমান বিন হাদির শাহাদাত কবুল করে তাকে জান্নাতে অতি উচ্চ মর্যাদা দেয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং শহীদ ওসমান বিন হাদির পরিবার-পরিজনসহ সবাইকে হেফাজত করার জন্য দোয়া করেন।”

আলোচনা শেষে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন সম্মানিত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে ওসমান হাদির শাহাদাত কবুল করে তাকে জান্নাতে অতি উচ্চ মর্যাদা প্রদান করার জন্য তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

সাম্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে: মুহাম্মদ শাহজাহান

সাম্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে: মুহাম্মদ শাহজাহান

চকরিয়া টাইমস:

চট্টগ্রাম শহরে অবস্থানরত চকরিয়া-পেকুয়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে এক প্রীতি সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১নভেম্বর) পিপস্টপ হোটেল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, সাম্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণে ন্যায়ের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে যে যার অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

চকরিয়া উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আরিফুর রহমান চৌধুরী মানিকের সভাপতিত্বে ও আয়োজক কমিটির অন্যতম মুখপাত্র সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তার আলোচনা পেশ করেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চকরিয়া-পেকুয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক।

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আখতার আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, নগর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ড. আ.ম.ম মাশরুর হোছাইন, পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আমীর মাওলানা ফরিদুল আলম।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ ড. লায়ন মুহাম্মদ সানা উল্লাহ, ব্যবসায়ী সরফরাজ আল নেওয়াজ চৌধুরী, অধ্যাপক মিছবাহ উদ্দীন, অধ্যাপক বাহার উদ্দিন জুবাইর, অধ্যাপক কফিল উদ্দীন, ড. কফিল উদ্দীন ফারুক, সাবেক ছাত্রনেতা মোরশেদুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মির্জা গালিব প্রমুখ।

বিশ্বসেরা গবেষকের তালিকায় ঢাবির ৩৫ জন শিক্ষক

বিশ্বসেরা গবেষকের তালিকায় ঢাবির ৩৫ জন শিক্ষক

নিউজ ডেস্ক : 

যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসভিয়ার’ বিশ্বসেরা গবেষক তালিকা প্রকাশ করেছে। বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৩৫ জন শিক্ষক ও গবেষক স্থান পেয়েছেন। যা দেশে সর্বোচ্চ।

গত বছর এই তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থান পেয়েছিলেন ১০ জন। চলতি বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ এ, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, কনসিস্টেন্সি এবং সহ-লেখকদের প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান এবং বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চায় ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতিফলন।

স্বীকৃত গবেষকরা হলেন- এম. এ. খালেক, মো. মনজুর হাসান, মুহাম্মদ ইব্রাহিম শাহ, মো. আব্দুল মুকতাদির, মো. রাকিবুল হক, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী, নেপাল চন্দ্র রায়, অমিত আবদুল্লাহ খন্দকার, তসলিম উর রশিদ, আব্দুস সালাম, মো. নাজমুল হাসান, কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ, মো. শাদ সালমান, এম. রেজাউল ইসলাম, মোঃ কাওসার আহমেদ, খাদিজা কুবরা, এম. এস. রহমান, তাওসিফুর রহমান, আনিছুর রহমান, সৈকত মিত্র, এম. মঈনুল ইসলাম, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মো. আবু বিন হাসান সুসান, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, এম. ফেরদৌস, মো. আব্দুল কুদ্দুস, মো. মাহমুদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মোল্লা, মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, মো. রবিউল হাসান, আল সাকিব খান পাঠান, মো. আব্দুর রাজ্জাক, অনিমেষ পাল, শেখ এম. এম. ইসলাম এবং মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পাওয়ায় শিক্ষক ও গবেষকদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু শিক্ষক ও গবেষকদের অসাধারণ অর্জনকে তুলে ধরে না বরং এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানচর্চার বিকাশ এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিরও প্রতিফলন ঘটায়। এই অর্জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষ সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


উপাচার্য আরো বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য একটি টেকসই অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত এক বছর ধরে গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার মতো নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।