বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হলে ফের জুলাই জাগরণ নেমে আসবে : জেলা আমীর

চকরিয়া টাইমস :

কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষিত রোড ম্যাপের আলোকে সংস্কার, বিচার ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হলে দেশব্যাপী আবারো জুলাই জাগরণ নেমে আসবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। অতীতের মতো দিনের ভোট রাতে এবং আমি -ডামি মার্কা নির্বাচন হলে জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। দেশের স্বাধীনতা -সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে, তাই সকলের জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে নির্বাচনের আয়োজন করুন।

তিনি আরো বলেন, বিগত সাড়ে পনেরো বছর আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দেশের সকল প্রতিষ্ঠান, সামাজিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা এবং শিক্ষা-সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এহেন পরিস্থিতি থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ২০২৪ সালে আমাদের তরুণ প্রজন্ম জাতিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য গণ অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। তরুণদের স্বপ্ন, শহীদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের আহাজারি ও প্রত্যাশা এখনো বহুদূর। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব সমান তালে চলছে। পুরোনো ধারার শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে কিছু রাজনৈতিক দলের অনীহা দেশবাসী কে হতাশ করছে। জামায়াতে ইসলামী দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে এবং স্বাধীনতা - সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছে। জনগণ জামায়াতের উপর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করলে আমরা সুশাসন, ন্যায়বিচার, সামাজিক নিরাপত্তা ও মূল্যবোধ রক্ষা করে জাতিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। আমরা নিজেরা দুর্নীতি করবো না কাউকে করতে দিব না। আমরা কোথাও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্বে নেই, কাউকে করতে ও দিব না। জামায়াতের এমপিরা অতীতের গতানুগতিক রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পরিবর্তে দেশের মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা কে অগ্রাধিকার দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে বদ্ধপরিকর। তাই আগামীতে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে কক্সবাজার -০৩ (সদর-রামু ও ঈদগাঁও) আসনে এ জনপদের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জননেতা শহিদুল আলম বাহাদুর কে এমপি নির্বাচিত করে সংসদে প্রেরণের জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কক্সবাজার শহর ও সদর উপজেলা শাখা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিশাল গণমিছিলোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। গণমিছিল টি কক্সবাজার হাশেমিয়া আলিয়া মাদরাসা গেইট থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কক্সবাজার পাবলিক হল মাঠে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে জামায়াতের দলীয় প্রতীক দাঁড়ি পাল্লাসহ বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড বহন করে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন। অভূতপূর্ব বিশাল গণমিছিল দেখে শহরের ব্যবসায়ী ও জনসাধারণ দুই হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।

শহর আমীর জননেতা আব্দুল্লাহ আল ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার -০৩ সংসদীয় আসনে এমপি প্রার্থী সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জননেতা শহিদুল আলম বাহাদুর। তিনি বলেন, কক্সবাজারের মানুষ সচেতন ও শান্তি প্রিয়। বিগত সময়ে এই জনপদে পরিকল্পিত উন্নয়নের যথেষ্ট অভাব ছিল। ত্রিশ লক্ষাধিক মানুষের জন্য জেলা সদরে যে হাসপাতাল রয়েছে সেখানে অবকাঠামো, জনবল, আধুনিক সরঞ্জাম, আইসিইউ, সিসিইউর সংকট রয়েছে। যার কারণে আমার কক্সবাজারবাসী সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আইসিইউ বন্ধের সংবাদ ও আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। আমি অবিলম্বে পর্যটন রাজধানী হিসেবে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করণের দাবি জানাচ্ছি। পর্যটক ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং চাঁদাবাজি মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। শিক্ষা- দীক্ষায় অগ্রসরমান এ জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চতর ও যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করণে অতি শীঘ্রই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবী করছি, পাশাপাশি সমুদ্র ও নদী ভাঙ্গন থেকে কক্সবাজার শহর, শহরতলীসহ বিভিন্ন এলাকাকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। আগামী দিনে বৈষম্যহীন, ইনসাফপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে জামায়াতে ইসলামী তথা দাঁড়ি পাল্লার পক্ষে গণজাগরণ সৃষ্টির জন্য সকলের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

শহর সেক্রেটারি রিয়াজ মোহাম্মদ শাকিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা আমীর অধ্যাপক খুরশিদ আলম আনসারী, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি আবদুর রহিম নূরী।

উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, শামসুল আলম বাহাদুর, দেলাওয়ার হোসাইন, সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল আমীন মু. সিরাজুল ইসলাম, কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাফর উল্লাহ ইসলামাবাদী, কক্সবাজার শহর নায়েবে আমীর কফিল উদ্দিন চৌধুরী, সহকারী সেক্রেটারি দরবেশ আলী আরমান ।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 comments: