জাতীয় নির্বাচনের পর ইনসাফের দেশ গড়ার দিকে পা বাড়াবে বাংলাদেশ: ডাঃ শফিকুর রহমান

শাহজালাল শাহেদ (চকরিয়া টাইমস):

জাতীয় নির্বাচনের পর ইনসাফের দেশ গড়ার দিকে পা বাড়াবে বাংলাদেশ এমন মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, পেছনে থাকানোর সুযোগ নেই; অপপ্রচার সমালোচনাকারীরাই পেছনে পড়ে থাকবে। আমাদের অগ্রযাত্রাকে আর দমিয়ে রাখতে পারবেনা। যাদের জন্য আজ এ দেশ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার শক্তি সাহস সঞ্চয় করেছে; তাদেরকে আজ অপমান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের কারণে অনেকে আজকে জেল থেকে বের হয়েছে। বিদেশে গিয়ে অনেকে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তাদেও কারণে আজ অনেকের দেশে আসার সুযোগ হয়েছে। আজকে সেই উপকারকে আপনি উপহাস করেন। এটা তাদের জন্য বুমেরাং হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা এই যোদ্ধাদের কথা দিচ্ছি, তেরো তারিখ ইনশাআল্লাহ নতুন করে বাংলাদেশ পাবে দেশের জনগণ। সেদিন আমাদের মায়েদেরকে আমাদের মাথার ওপর তুলে মর্যাদা দেবো ইনশাআল্লাহ। তাদেরকে ঘরে বাইরে কর্মস্থলে সর্বত্রে সব জায়গায় পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বলেন, মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সমস্ত শিক্ষা খরচ বহন করবে সরকার। সন্তান লালন পালনে মায়েদের ভূমিকা অপরীসিম এবং এ নেয়ামত মহান আল্লাহ তা’আলা শুধু মায়েদেরকেই দিয়েছেন। এ মায়ের জাতিকে যারা সম্মান করবেন; আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে সম্মানিত করবেন ইনশাআল্লাহ। তবে মা’দেরকে যারা সম্মানিত করতে জানবেনা- তারা আল্লাহর কাছ থেকে সম্মান পাবেনা।
তিনি জুলাই যোদ্ধাদের কথা বলতে গিয়ে বলেন, তারা রাস্তায় নেমে পড়ে নাই; আমাদেরকে বেকায়দায় ফেলে। তারা বলছেন আমাদেরকে কাজ দেন। এটাই ছিলো তাদের প্রাপ্য দাবি- যে আমাদের পাওনা কাজটা আমাদের বুঝিয়ে দেন। আমাদের মেধা যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করা হোক।
তিনি যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বেকার ভাতার সমালোচনা করে বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে অপমানিত করবো না। আমরা যুবকের প্রত্যেকটা হাতকে মজবুত করে গড়ে দেবো। যাতে করে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে পারে। এবার তারাই চিৎকার দিয়ে বলবে আমিই বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশকে গর্বিত নাগরিক বানাতে চাই যুব সমাজকে।
ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি এখন চোখে অন্ধকার দেখছে। দিনকে রাত মনে করে দেশের বিভিন্নস্থানে অঘটন ঘটাচ্ছে। দিশেহারা হয়ে কি করবে কি ধরবে হিসাব খোঁজে পায় না। কিন্তু মনে রাখবেন; সেইদিন জনগণের ভালোবাসার জোয়ার ঠেকানো যাবে না। জনগণের দেহের ওপর চাবুক মারতে পারবেন; মনের ওপর চাবুক মারতে পারবেন না।
গত কয়েকদিন ধরে দেশে অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। মা বোনদেরকে অপমান করা। তার প্রতিবাদ করায় এখন চোরের মতো আমার পেছনে লেগেছে। তাদের সামনাসামনি প্রতিবাদ করার সাহস নেই। এসব লোকেরা সামনে আসার সাহস পাবেনা; পেছনেই পড়ে থাকবে। তিনি আহবান জানিয়ে বলেন, নিজের আদর্শ কর্মসূচি পরিকল্পনা বক্তব্য চরিত্র নিয়ে আসুন। আমাদের দল আমাদের শাসক আমাদের সরকারই পারবে একটা দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ দিতে। অবশ্য সেটি তারা বলেনি। তারা চাইছে ঠুঁটি চেপে ধরছে। বগলের তলে ঋণ খেলাপি; আর আপনিই দিবেন বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত? জনগণ সবার চালাকি বুঝে। জনগণ এখন বোকা না।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আয়োজনে শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দাঁড়িপাল্লা মার্কার বিশাল নির্বাচনী জনসভা। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীরে জামায়াত উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
সকাল দশটায় শুরু হওয়া জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, জাগপা সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ডাঃ মাহমুদা মিতু, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম অঞ্চল টিমের সদস্য মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক ও কক্সবাজার-সদর-রামু-ঈদগাঁও আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন ফারুকী, সাবেক সেক্রেটারি এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী, এবি পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর কাশেম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সাহিত্য সম্পাদক মুহাম্মদ ইবরাহিম, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি হাফেজ নুরুল্লাহ জিহাদী, সহ-সভাপতি মাওলানা আমিনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইউনূস, জেলা নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা নুরুল হক চকোরী, এলডিপির কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, জেলা জামায়াত নেতা নুরুল হোসাইন সিদ্দিকী, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র রাজ বিহারী দাশ, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট সলিম উল্লাহ বাহাদুর, জেলা শ্রমিক কল্যাণের সহ-সভাপতি সাইদুল আলম, কক্সবাজার সদর উপজেলা আমীর অধ্যাপক খুরশীদ আলম আনসারী, উখিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা আবুল ফজল, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি রিয়াজ মুহাম্মদ শাকিল, জুলাই আন্দোলনে শহীদ আহসান হাবিবের চাচা মাস-উদ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুহাম্মদ পারভেজ, কক্সবাজার জেলা এনসিপির সদস্য সচিব অধ্যাপক ওমর ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক খালিদ বিন সাঈদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রাইয়ান কাশেম প্রমুখ।
পুরো জনসভা সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম ও জেলা মিডিয়া সমন্বয়ক আল আমিন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মুফতি হাবিব উল্লাহ।
এদিকে আমীরে জামায়াত জনসভাস্থলে আসার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠ। এমনকি পাশ্ববর্তী গাছে , বহুতল ভবনের ছাদেসহ বিভিন্নভাবে ঠাঁই নিয়ে দর্শনার্থীরা জামায়াতের নির্বাচনী জনসভা উপভোগ করেন।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 comments: